বিদেশে চাকরির জন্য আর্মেনিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং জানতে চাইছেন আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে? এই খরচ শুধু ভিসা ফি দিয়ে হিসাব করলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। আর্মেনিয়ায় বৈধভাবে কাজ করতে হলে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিটের প্রক্রিয়া এবং কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি নিতে হয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন হতে পারে ভিসা, নথি অনুবাদ, মেডিকেল পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, বিমা এবং বিমান টিকিটের খরচ।
আর্মেনিয়ার সরকারি ওয়ার্ক পারমিট প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করা হয়। নিয়োগকর্তা প্রথমে শূন্য পদের তথ্য জমা দেন এবং পরবর্তীতে বিদেশি কর্মীর জন্য কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করেন।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আর্মেনিয়ায় প্রবেশের নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এমন দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে, যাদের নাগরিকদের আর্মেনিয়ার ভিজিটর ভিসার জন্য সাধারণত আমন্ত্রণপত্রের প্রয়োজন হয় এবং আবেদন দূতাবাস বা কনস্যুলার মিশনের মাধ্যমে করতে হয়।
আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে?
আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে—এর উত্তর দিতে হলে ওয়ার্ক পারমিট এবং ভিসা-সংক্রান্ত খরচ আলাদা করে দেখা দরকার।
আর্মেনিয়ার সরকারি ওয়ার্ক পারমিট প্ল্যাটফর্মে কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সরকারি ফি ১,০৫,০০০ আর্মেনিয়ান দ্রাম (AMD) নির্ধারিত রয়েছে। একই পরিমাণ ফি অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি নবায়নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কাছাকাছি বিনিময় হারের হিসাবে ১ মার্কিন ডলার প্রায় ৩৬৪.১৮ AMD এবং বাংলাদেশি টাকার আন্তঃব্যাংক হার প্রায় ১২৩.২৫ টাকা প্রতি ডলার ছিল। এই হিসাবে ১,০৫,০০০ AMD প্রায় ৩৫,০০০–৩৬,০০০ বাংলাদেশি টাকা হতে পারে। তবে মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হওয়ায় বাংলাদেশি টাকায় প্রকৃত পরিমাণ কিছুটা কম-বেশি হবে।
এটি সরকারি কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির ফি। বিমান টিকিট, কাগজপত্র, অনুবাদ, মেডিকেল পরীক্ষা বা কোনো এজেন্সির সার্ভিস চার্জ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
আর্মেনিয়ায় ওয়ার্ক পারমিটের সরকারি ফি কত?
আর্মেনিয়ার সরকারি ওয়ার্ক পারমিট প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য ১,০৫,০০০ AMD ফি দেখানো হয়েছে। এই অনুমতির মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নবায়নের ব্যবস্থাও রয়েছে।
কার্ড হারিয়ে গেলে বা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন হলে কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের কার্ড পুনরুদ্ধারের সরকারি ফি ১২,০০০ AMD।
তবে বিদেশি কর্মীর পুরো অভিবাসন খরচকে শুধু এই ১,০৫,০০০ AMD দিয়ে হিসাব করা উচিত নয়। কারণ কর্মীকে নিজের দেশের কিছু নথি, প্রয়োজনীয় অনুবাদ এবং ভ্রমণ-সংক্রান্ত ব্যয় বহন করতে হতে পারে।
আর্মেনিয়ার ওয়ার্ক পারমিট কীভাবে পাওয়া যায়?
আর্মেনিয়ায় বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া মূলত নিয়োগকর্তার মাধ্যমে শুরু হয়। সরকারি ওয়ার্ক পারমিট প্ল্যাটফর্মে নিয়োগকর্তাকে প্রথমে নিবন্ধন করতে হয়। এরপর নিয়োগকর্তা সংশ্লিষ্ট চাকরির শূন্য পদের বিবরণ জমা দেন।
সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি প্রার্থীর জন্য কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থাৎ, একজন বাংলাদেশি নাগরিক সাধারণত নিজে একা গিয়ে “ওয়ার্ক পারমিট কিনে” চাকরি শুরু করতে পারবেন না। প্রথমে বৈধ নিয়োগকর্তা এবং চাকরির সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
আর্মেনিয়ায় কাজের ভিসা আর ওয়ার্ক পারমিট কি একই?
না, বিষয় দুটি এক নয়।
ওয়ার্ক পারমিট হলো আর্মেনিয়ায় বিদেশি নাগরিককে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রক্রিয়া। অন্যদিকে ভিসা হলো আর্মেনিয়ায় প্রবেশের অনুমতি।
আর্মেনিয়ার সরকারি ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির প্রক্রিয়াও যুক্ত রয়েছে। তাই “ওয়ার্ক পারমিট ভিসা” কথাটি সাধারণভাবে ব্যবহার করা হলেও সরকারি প্রক্রিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট এবং প্রবেশ ভিসার বিষয় আলাদা করে বুঝতে হবে।
এই পার্থক্যটি জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো এজেন্সি যদি শুধু “ওয়ার্ক ভিসার সরকারি ফি” বলে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে, তাহলে সেই অর্থ কোন সেবার জন্য নেওয়া হচ্ছে তা লিখিতভাবে জেনে নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশিদের জন্য আর্মেনিয়ার ভিসা নিয়ম কী?
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আর্মেনিয়ায় ভিসা-সংক্রান্ত বিশেষ নিয়ম রয়েছে। আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান তালিকায় বাংলাদেশকে এমন দেশগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে, যাদের নাগরিকরা ভিজিটর ভিসার জন্য সাধারণভাবে আমন্ত্রণপত্রের ভিত্তিতে আবেদন করেন এবং আবেদনটি আর্মেনিয়ার কূটনৈতিক মিশন বা কনস্যুলার অফিসের মাধ্যমে করতে হয়।
আমন্ত্রণপত্র নির্দিষ্ট নিয়মে আর্মেনিয়ায় নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন বা অনুমোদিত ব্যক্তি জমা দিতে পারেন।
তাই বাংলাদেশ থেকে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে আপনার নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান ও প্রবেশপথের জন্য কোন ভিসা প্রযোজ্য, সেটি আর্মেনিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করা উচিত।
আর্মেনিয়ার ভিসা ফি কত?
আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রবেশ ভিসার ফি প্রকাশ করেছে। সাধারণ ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রে ২১ দিন পর্যন্ত থাকার জন্য ফি ৩,০০০ AMD, আর ১২০ দিন পর্যন্ত থাকার জন্য ১৫,০০০ AMD। একাধিকবার প্রবেশের ভিসার ফি মেয়াদ অনুযায়ী ২০,০০০ বা ৪০,০০০ AMD হতে পারে।
তবে এই ভিসা ফিগুলোকে সরাসরি “ওয়ার্ক পারমিটের ফি” বলা যাবে না। কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির সরকারি ফি আলাদা এবং বর্তমানে তা ১,০৫,০০০ AMD।
কোন প্রবেশ ভিসা আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তা আপনার কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে।
আর্মেনিয়া যেতে মোট কত টাকা লাগতে পারে?
আর্মেনিয়ায় চাকরির জন্য যাওয়ার মোট খরচের কোনো একক সরকারি অঙ্ক নেই। কারণ সরকারি ফি ছাড়াও ব্যক্তিগত এবং ভ্রমণ-সংক্রান্ত খরচ রয়েছে।
কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির সরকারি ফি ১,০৫,০০০ AMD। এর বাইরে প্রযোজ্য ভিসা ফি, পাসপোর্ট ও ছবি, নথির অনুবাদ, নোটারি বা বৈধকরণ, মেডিকেল পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, স্বাস্থ্যবিমা এবং বিমান টিকিটের খরচ হতে পারে।
এ ছাড়া কোনো নিয়োগকারী সংস্থা বা বৈধ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করলে তাদের সার্ভিস চার্জ আলাদা হতে পারে। এই সার্ভিস চার্জ আর্মেনিয়া সরকারের নির্ধারিত ওয়ার্ক পারমিট ফি নয়।
তাই কেউ যদি বলে “আর্মেনিয়া যেতে সরকারি খরচই ৩ বা ৪ লাখ টাকা”, তাহলে কোন কোন ফি এবং সেবা ওই অঙ্কের মধ্যে রয়েছে তা যাচাই করা প্রয়োজন।
আর্মেনিয়ার ওয়ার্ক পারমিটের জন্য কী কী কাগজ লাগে?
কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করার সময় আবেদনপত্র, পাসপোর্ট, পাসপোর্টের কপি এবং নির্দিষ্ট আকারের ছবি প্রয়োজন হতে পারে। আর্মেনিয়ার সরকারি আবাসিক অনুমতির তথ্য অনুযায়ী, পাসপোর্টের আর্মেনিয়ান ভাষায় নোটারাইজড অনুবাদ এবং আবেদন করার কারণের প্রমাণও প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সনদও প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি নির্দেশনায় মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং বসবাসের অনুমতির ফি পরিশোধের প্রমাণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
চাকরির ধরনের ওপর নির্ভর করে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা বা পূর্বের অভিজ্ঞতার নথিও প্রয়োজন হতে পারে। তাই চাকরির অফার পাওয়ার পর নিয়োগকর্তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথির সম্পূর্ণ তালিকা নেওয়া ভালো।
আর্মেনিয়ায় কাজের জন্য চাকরির অফার কেন প্রয়োজন?
বিদেশি নাগরিক হিসেবে আর্মেনিয়ায় কাজ করতে চাইলে বৈধ নিয়োগকর্তা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাই প্রথমে চাকরির শূন্য পদের তথ্য জমা দেন এবং পরবর্তীতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
এ কারণে কোনো ব্যক্তি যদি চাকরির অফার, নিয়োগকর্তার পরিচয় বা লিখিত চুক্তি ছাড়াই “আর্মেনিয়ার ওয়ার্ক পারমিট” দেওয়ার কথা বলেন, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত।
চাকরির চুক্তিতে অন্তত আপনার পদ, বেতন, কাজের সময়, চুক্তির মেয়াদ এবং অন্যান্য সুবিধা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত।
আর্মেনিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট পেতে কত সময় লাগে?
সময় নির্দিষ্টভাবে এক অঙ্কে বলা ঠিক নয়, কারণ আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি যাচাই ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
আর্মেনিয়ার সরকারি অভিবাসন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বিদেশি কর্মীর তথ্য যাচাই করে। কিছু ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও পুলিশের পক্ষ থেকে মতামত দেওয়ার প্রক্রিয়াও রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের মতামত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এরপর মাইগ্রেশন সার্ভিস সিদ্ধান্ত নেয়।
তাই কোনো এজেন্সি যদি কোনো যাচাই ছাড়াই “৩ দিনে ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত” বলে, সেই দাবি সরকারি প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।
আর্মেনিয়ায় অস্থায়ী বসবাসের কার্ডের খরচ কত?
কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য সরকারি ফি ১,০৫,০০০ AMD। সরকারি আবাসিক তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ অস্থায়ী আবাসিক কার্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
এই কার্ডের জন্য আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় নথি, মেডিকেল সনদ এবং ফি পরিশোধের প্রমাণ দিতে হয়।
বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে ১,০৫,০০০ AMD-এর মূল্য আনুমানিক ৩৫ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে। তবে বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হওয়ায় অর্থ পরিশোধের সময় প্রকৃত বাংলাদেশি টাকার পরিমাণ আলাদা হতে পারে। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আর্মেনিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হারে ১ মার্কিন ডলার ছিল ৩৬৪.১৮ AMD এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৫ সেপ্টেম্বরের স্পট রেফারেন্স রেট ছিল ১ ডলার প্রায় ১২৩.২৬ টাকা।
আর্মেনিয়ায় কোন ধরনের কাজে বিদেশিরা যেতে পারেন?
আর্মেনিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগ থাকতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি, নির্মাণ, আতিথেয়তা, উৎপাদন, পরিষেবা, প্রকৌশল এবং অন্যান্য দক্ষ পেশায় বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।
তবে কোন পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা হবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার প্রয়োজন এবং চাকরির যোগ্যতার ওপর।
তাই শুধু “আর্মেনিয়ায় কাজের ভিসা পাওয়া যায়” শুনে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খোঁজা উচিত।
আর্মেনিয়ায় কাজের বেতন কত?
আর্মেনিয়ায় একজন বিদেশি কর্মীর বেতন নির্দিষ্ট কোনো একক অঙ্ক নয়। পেশা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নিয়োগকর্তা এবং চাকরির চুক্তির ওপর বেতন নির্ভর করে।
উদাহরণস্বরূপ, একজন দক্ষ সফটওয়্যার কর্মী, প্রকৌশলী বা বিশেষায়িত পেশাজীবীর বেতন একজন সাধারণ সহায়ক কর্মীর তুলনায় ভিন্ন হতে পারে।
তাই আর্মেনিয়ায় যাওয়ার আগে চাকরির চুক্তিতে মাসিক বেতন, কাজের সময়, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক, কর এবং অন্যান্য সুবিধা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না যাচাই করা উচিত।
শুধু কোনো এজেন্সির বলা সম্ভাব্য বেতনের ওপর নির্ভর করে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ নয়।
আর্মেনিয়া যাওয়ার আগে এজেন্সির খরচ কীভাবে যাচাই করবেন?
অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে চাকরির জন্য আবেদনকারীরা মধ্যস্থতাকারী বা রিক্রুটিং এজেন্সির সাহায্য নেন। তবে এজেন্সির সার্ভিস চার্জ এবং সরকারি ফি এক জিনিস নয়।
কোনো এজেন্সি যদি কয়েক লাখ টাকা দাবি করে, তাহলে লিখিতভাবে জেনে নিন ওই অর্থের বিনিময়ে কী কী সেবা দেওয়া হবে। যেমন চাকরির নিয়োগ, কাগজপত্র প্রস্তুত, অনুবাদ, ভিসা সহায়তা, বিমান টিকিট বা অন্য কোনো সেবা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকারি ফি কত এবং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ কত—দুটি আলাদা করে লিখিত হিসাব নেওয়া।
আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় প্রতারণা থেকে কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে ভুয়া নিয়োগপত্র, ভুয়া ভিসা এবং অতিরঞ্জিত বেতনের প্রতিশ্রুতি বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কোনো ব্যক্তি যদি নিয়োগকর্তার নাম না জানিয়ে শুধু “আর্মেনিয়ার ওয়ার্ক পারমিট হয়ে যাবে” বলে, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। একইভাবে চাকরির চুক্তি না দেখিয়ে বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা চাওয়া হলেও আগে যাচাই করুন।
আর্মেনিয়ার সরকারি ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থা নিয়োগকর্তাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। তাই নিয়োগকর্তা, চাকরির পদ এবং সরকারি প্ল্যাটফর্মে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করতে কত টাকা হাতে রাখা উচিত?
আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে—এর ক্ষেত্রে সরকারি ফি এবং ব্যক্তিগত খরচ আলাদা করে হিসাব করা সবচেয়ে ভালো।
কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির সরকারি ফি ১,০৫,০০০ AMD, যা বর্তমান বিনিময় হারের ভিত্তিতে আনুমানিক ৩৫–৩৬ হাজার বাংলাদেশি টাকার কাছাকাছি।
এর বাইরে প্রযোজ্য প্রবেশ ভিসা, নথি অনুবাদ ও বৈধকরণ, মেডিকেল পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, স্বাস্থ্যবিমা এবং বিমান টিকিটের খরচ যোগ হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভিসার আমন্ত্রণপত্র-সংক্রান্ত নিয়মও বিবেচনায় রাখতে হবে।
তাই নির্দিষ্ট একটি অঙ্ককে সবার জন্য প্রযোজ্য “মোট খরচ” বলা সঠিক হবে না।
আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট এবং অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির বিষয়গুলো আলাদা করে বুঝতে হবে।
২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আর্মেনিয়ায় কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির সরকারি ফি ১,০৫,০০০ AMD। বর্তমান বিনিময় হারের ভিত্তিতে এটি আনুমানিক ৩৫–৩৬ হাজার বাংলাদেশি টাকার কাছাকাছি।
এর বাইরে আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভিসা ফি, কাগজপত্র প্রস্তুত, অনুবাদ, বৈধকরণ, মেডিকেল পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, স্বাস্থ্যবিমা এবং বিমান টিকিটের খরচ যুক্ত হবে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আর্মেনিয়ার ভিসা প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণপত্রের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, লিখিত চাকরির অফার এবং বৈধ নিয়োগকর্তার তথ্য যাচাই না করে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া উচিত নয়। সরকারি ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া নিয়োগকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য নির্ধারিত সরকারি ফিও রয়েছে।
