ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘জি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে মিশর। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি নকআউট পর্বে ওঠার পথও অনেকটাই সুগম করেছে মিশর।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা অবশ্য ছিল নিউজিল্যান্ডের পক্ষে। ১৫তম মিনিটে টিম পেইনের কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফিন সারম্যান। সেই গোলেই প্রথমার্ধ শেষ করে এগিয়ে ছিল ওশেনিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধিরা।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে মিশর দ্রুত ম্যাচে ফেরে। ৫৮তম মিনিটে মোহাম্মদ হানির ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান মোস্তাফা জিকো।
সমতা ফেরানোর মাত্র নয় মিনিট পরই ব্যবধান গড়ে নেয় মিশর। জিকোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান দলটির তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ।
এরপর ৮২তম মিনিটে কর্নার থেকে আরেকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন সালাহ। তার নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন বদলি খেলোয়াড় ত্রেজেগে।
বিশ্বকাপে এটি মিশরের চতুর্থ অংশগ্রহণ। ১৯৩৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা দেশটি এবারই প্রথম জয় পেল বিশ্বমঞ্চে। ফলে গ্রুপে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে তারা। আগামী ম্যাচে ইরানকে হারাতে পারলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করবে মিশর।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো নিউজিল্যান্ডের। শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয় ছাড়া তাদের সামনে নকআউট পর্বে ওঠার আর কোনো সহজ পথ নেই।
ম্যাচে এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সালাহ। তার নেতৃত্বেই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করল মিশর।
