T TIME NEWS (6)
ব্রিটেনে আবারও নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনা, চাপে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

ব্রিটেনে আবারও নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনা, চাপে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

 

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আবারও নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত চার বছরে এটি হতে পারে তৃতীয়বারের মতো এমন ঘটনা, যখন কোনো প্রধানমন্ত্রী সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত না হয়েও নিজ দলের আস্থা হারিয়ে সরে দাঁড়ানোর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

লেবার পার্টির একাধিক নেতা ও মন্ত্রী মনে করছেন, স্টারমারের নেতৃত্বে সরকারের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ফলে আগামী নির্বাচনে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিতে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের উল্লেখযোগ্য জয় দলীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তার এই সাফল্য অনেক সংসদ সদস্যকে বিশ্বাস করিয়েছে যে, তিনি দলকে আরও কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হতে পারেন।

উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে ফেরার পথে থাকা অ্যান্ডি বার্নহাম এখন সম্ভাব্য নেতৃত্বের অন্যতম আলোচিত নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিফর্ম ইউকের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বার্নহামের নির্বাচনী সাফল্য তাকে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

লেবার পার্টির অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বার্নহাম দলের জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হতে পারেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার অন্তত চার সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে তার বিদায়ের সময়সূচি নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন। এদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ মন্ত্রীদের এমন অবস্থান স্টারমারের জন্য রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর করেছে। তাদের পদে বহাল রেখে চাপ উপেক্ষা করা দীর্ঘমেয়াদে কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্টারমারের সামনে মূলত দুটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, তিনি সমালোচকদের উপেক্ষা করে নেতৃত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। তবে এতে দলীয় বিভক্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, তিনি নিজেই সরে দাঁড়ানোর একটি সময়সূচি ঘোষণা করে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অনেকের মতে, এই পথ বেছে নিলে তিনি অন্তত দলীয় রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় কিছুটা প্রভাব বজায় রাখতে পারবেন।

লেবার পার্টির ভেতরে নতুন নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে। একাংশ পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব নির্বাচনের পক্ষে, যাতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সক্ষমতা যাচাই করা যায়।

অন্যদিকে, অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন দীর্ঘ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা দলকে দুর্বল করতে পারে। তারা সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্ষে মত দিচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে দলীয় ঐকমত্য তৈরি হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথও খুলে যেতে পারে।

এদিকে অ্যান্ডি বার্নহাম সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে ওয়েস্টমিনস্টারে যাচ্ছেন। তবে তার আগেই প্রধানমন্ত্রী কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েকদিন যুক্তরাজ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিয়ার স্টারমারের সিদ্ধান্ত শুধু লেবার পার্টির ভবিষ্যৎই নয়, বরং ব্রিটিশ সরকারের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *