ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা শতাধিক ব্যক্তি
ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো শতাধিক অভিবাসী অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তদের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই ব্যক্তিদের একটি হোটেলে রাখা হয়, যা পরবর্তীতে ভূমিকম্পে ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি প্রত্যাবাসন ফ্লাইট ভেনেজুয়ায় পৌঁছায়। ফ্লাইটটিতে ১৪৬ জন যাত্রী ছিলেন বলে দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে উল্লেখ করেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ফ্লাইটে থাকা অনেককে রাজধানী কারাকাসের কাছে অবস্থিত ‘হোটেল সানতুয়ারিও লা ইয়ানাদা’ নামের একটি আবাসনে রাখা হয়েছিল। পরে একই দিনে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়ে।
নিহত ও নিখোঁজদের স্বজনরা জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পর অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাদের একজন ৪৭ বছর বয়সী রোসভেলিস বস্কান চাসিন। তার মেয়ে জানান, ভেনেজুয়ায় অবতরণের কয়েক ঘণ্টা পর বাবা তাকে ফোন করেছিলেন।
তিনি বলেন, তার বাবা সেদিন বাড়ি ফিরতে পারবেন না বলে জানিয়েছিলেন এবং কর্তৃপক্ষ তাদের অন্যত্র রাখার কথা বলেছিল। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
আরেক স্বজন লুইসা কুইন্তেরো জানান, তার খালা জোহানা পিনেদা, খালু রিচার্ড পেরেইরা এবং সাত বছর বয়সী এক চাচাতো ভাইও ওই ফ্লাইটে ছিলেন।
তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছিলেন এবং আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়ায় ছিলেন। পরে নিয়মিত অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাদের আটক করা হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে ভেনেজুয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।
কুইন্তেরোর ভাষ্য অনুযায়ী, তার খালা ও ছোট কাজিন ধসের ঘটনা থেকে বেঁচে গেলেও রিচার্ড পেরেইরা নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর তার খালা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং শিশুটি চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
ভেনেজুয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৪ জুন দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের নিরাপদ আবাসন ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তবে এ বিষয়ে ভেনেজুয়ান কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়ায় মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের একটি অংশের হোটেল ধসের ঘটনায় হতাহত হওয়ার খবর নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে আরও সময় লাগতে পারে।
