টুনা মাছের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশকে শক্ত অবস্থানে দেখতে চায় সরকার
চট্টগ্রাম: আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক মৎস্যবাণিজ্যে ইলিশকে টুনা মাছের পর অন্যতম মূল্যবান ও পরিচিত মাছ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং জাটকা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশীদ।
শনিবার চট্টগ্রামে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশের গ্রহণযোগ্যতা এবং চাহিদা বাড়ছে। ফলে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রজনন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, জাটকা নিধন বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাটকা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং রপ্তানি আয়ও বাড়বে।
সভায় কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। মন্ত্রী জানান, কৃষকের উৎপাদিত ফল, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, সংরক্ষণ সুবিধা বাড়লে কৃষক মৌসুমভিত্তিক মূল্যপতনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবেন এবং বছরজুড়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য অপচয় কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের ইলিশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছে। সঠিক ব্র্যান্ডিং, মান নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ইলিশ দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে টুনা মাছের মতো একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে হলে ইলিশের টেকসই উৎপাদন, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ অত্যন্ত জরুরি।
সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে মৎস্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইলিশকে কেন্দ্র করে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইলিশ শুধু জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি শক্তিশালী রপ্তানি পণ্য হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পাবে।
