নতুন মাসের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি জুলাইয়ের প্রথম চার দিনে দেশে বৈধ চ্যানেলে প্রায় ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ধরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের বেশি, যা টাকার অঙ্কে এক হাজার কোটিরও বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স কিছুটা কম হলেও প্রবাহ এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল প্রায় ৩৬ কোটি ডলার।
এর আগে জুন মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠান ২৮১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আসে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আসে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার।
রেমিট্যান্স প্রবাহে সবচেয়ে শক্তিশালী মাসগুলোর একটি ছিল মে। ওই মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তার আগের মাস এপ্রিলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
চলতি বছরের মার্চে রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়। সে মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠান ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ধারাবাহিকভাবে উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
