মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর পর পাল্টা হামলার দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় কিশ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ, বুশেহর এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর এসব এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত দুটি তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারেও হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটি।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তাদের মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলার পর জাহাজ দুটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করা হচ্ছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনর্বহাল করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে এবং এ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে ২০ শতাংশ ফি আদায় করা হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান। ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র উপকূলীয় দেশগুলোর রয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই।বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
