যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ে একটি বিশেষ প্রাইমটাইম ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ ভাষণকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে আবারও সামনে নিয়ে আসতে পারে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের ভাষণে চীনের সম্ভাব্য নির্বাচন হস্তক্ষেপসংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র জানিয়েছে, ওই তথ্য প্রকাশ করলে তা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে বলে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার উদ্বেগ রয়েছে।
তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে সংগ্রহ করা গোয়েন্দা তথ্যে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে চীন ২০২০ সালের নির্বাচনের ভোট গণনা বা ফলাফল পরিবর্তন করেছিল।
২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছিল। তিনি ডাকযোগে ভোটদান, ভোটিং মেশিনের নিরাপত্তা এবং অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার বিষয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালত ও একাধিক পুনর্গণনায় ব্যাপক ভোট জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রক্ষণশীল সাংবাদিক জন সলোমনের নেতৃত্বাধীন হোয়াইট হাউসের একটি টাস্কফোর্স সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে সংশ্লিষ্ট নথি চেয়েছে এবং গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেগুলো পর্যালোচনা করছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কী বলবেন, তা নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের ভিত্তিতে নানা জল্পনা চলছে। বাস্তবে এখনো কেউ জানে না, তিনি শেষ পর্যন্ত ভাষণে কী বিষয় তুলে ধরবেন।”
এদিকে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পরিচালকের কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সিআইএও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রিপাবলিকান সিনেটরদের ওপর ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাসের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী ভোট দিতে হলে ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র এবং ভোটার নিবন্ধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যগুলোকে ভোটার নিবন্ধনের তথ্য ফেডারেল সরকারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হবে।
ডেমোক্র্যাট ও ভোটাধিকারকর্মীদের দাবি, ভোট জালিয়াতির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল। তাদের মতে, এ ধরনের আইন বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির কিছু নেতা ট্রাম্পকে অতীতের বিতর্কিত নির্বাচন নয়, বরং মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়সহ সাধারণ মানুষের বর্তমান উদ্বেগের বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন বলেন, “প্রেসিডেন্ট কী বলবেন, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে আমি এবং আমার অধিকাংশ সহকর্মী ২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়েই বেশি মনোযোগী।”
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানরা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও চাপে রয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র তিনটি রিপাবলিকান আসন দখল করতে হবে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লড়াই তাদের জন্য তুলনামূলক কঠিন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার অভিযোগ করেছেন, হোয়াইট হাউস আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “তারা ন্যায্য প্রতিযোগিতায় জিততে পারবে না বলেই আমরা আশঙ্কা করছি, নানা ধরনের কৌশল নেওয়া হতে পারে।”
এদিকে ট্রাম্পের ভাষণ সম্প্রচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো সরাসরি সম্প্রচার সময় দেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজসহ কয়েকজন নেতা সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্প আবারও নির্বাচনসংক্রান্ত খণ্ডিত ও বিতর্কিত দাবি তুলে ধরতে পারেন।
