লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর টোল বা ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক জলপথে নতুন এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব-এল মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। বুধবার (২৯ জুলাই) টাইমস অব ইসরায়েল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। এর মধ্য দিয়ে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য টোল আদায়ের পরিকল্পনা কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে হুথি প্রতিনিধিরা তেহরান সফর করেন। সেখানে আন্তর্জাতিক জলসীমায় শুল্ক আদায়ের একটি কাঠামো গড়ে তোলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের জাহাজগুলোকে সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে। কারণ, এর আগে হুথিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদ নৌযাত্রা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিল চীন।
একজন আরব কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, শুল্ক আদায়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা গঠনে সহায়তা দিতে ইরানি উপদেষ্টারা ইয়েমেনে ফিরে গেছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরা আল-জুবা বলেছেন, হুথিরা লোহিত সাগরের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে জাহাজ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলো এই উদ্যোগের বিরোধিতা করলেও আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজকে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনা ও শুল্ক আদায়ের বিষয়ে ওমানের একটি প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করায় ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক অচলাবস্থা নিরসনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাব-এল মানদেব প্রণালিতে টোল আরোপ বা নৌপথে বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এতে সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথও সংকুচিত হবে।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ২০২৪ সালেও নিরাপদ নৌচলাচলের বিনিময়ে হুথিরা মাসে প্রায় ১৮ কোটি ডলার পর্যন্ত ফি আদায় করেছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে এশিয়ামুখী নৌপথে বাব-এল মানদেব প্রণালি ব্যবহার করলে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় ১৬ দিন সময় লাগে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে একই যাত্রাপথ সম্পন্ন করতে প্রায় ৫০ দিন সময় প্রয়োজন হয়।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
