পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড পিকে ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনায় চার পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এভারেস্টজয়ী প্রথম ওমানি নারী নাধিরা আল হার্থি, নেপালের অভিজ্ঞ আরোহী পুর বাহাদুর গুরুং এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর্বতারোহী সারাহ ম্যালোরি গেইস। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ছয়জন আরোহী। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ডে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের ৮ হাজার ৫১ মিটার উচ্চতার ব্রড পিকে তুষারধসের ঘটনায় নিখোঁজ পর্বতারোহীদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে চতুর্থ ব্যক্তির পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
শনিবার পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ব্যাহত হলেও শুক্রবার তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নেপালের পর্বতারোহী পুর বাহাদুর গুরুং, যুক্তরাষ্ট্রের সারাহ ম্যালোরি গেইস এবং ওমানের নাধিরা আল হার্থি।
আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন পাঁচজন নেপালি আরোহী, একজন ওমানি, একজন মার্কিন, পাকিস্তানের পর্বতারোহী সোহাইল সাখি, চীনের একজন আরোহী (ওয়াং নামে পরিচিত) এবং আরও একজন বিদেশি সদস্য।
এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন নেপালজন্ম ব্রিটিশ সাবেক সেনাসদস্য ও বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজা (নিমস দাই)। তিনি ২০১৯ সালে মাত্র ১৮৯ দিনে বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। পরে ২০২৩ সালে সেই রেকর্ড ভেঙে যায়।
গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ব্রড পিকে তুষারধসের কবলে পড়েন অভিযানের সদস্যরা। গিলগিট-বালতিস্তানের পর্যটন বিভাগের উপপরিচালক সাজিদ হুসাইন বলেন, দুর্ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের ১৪টি আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বতের মধ্যে আটটি নেপালে, পাঁচটি পাকিস্তানে এবং একটি তিব্বতে অবস্থিত। ব্রড পিককে পাকিস্তানের সবচেয়ে কঠিন আরোহনযোগ্য শৃঙ্গগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নেপালের পুর বাহাদুর গুরুং, যিনি ‘ইউক্তা’ নামেও পরিচিত ছিলেন, গুরুঙ সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি—১০ বার—মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছিলেন। এছাড়া তিনি বিশ্বের ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১২টি শৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করেন। পাকিস্তানের কে–টু পর্বত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় জয় করার কৃতিত্বও ছিল তাঁর। পর্যটকদের উদ্ধার অভিযানে তিনি নিয়মিত অংশ নিতেন।
ওমানের নাধিরা আল হার্থি ভূগোলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন এবং দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম ওমানি নারী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন। পরে প্রথম ওমানি হিসেবে কে–টু জয়ও করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সান অ্যান্টোনিওর বাসিন্দা সারাহ ম্যালোরি গেইস (৩৯) পাকিস্তানে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ৮ হাজার মিটার উচ্চতার শৃঙ্গ আরোহণের চেষ্টা। চলতি বছরের শুরুতে সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন অভিযানের স্বপ্ন পূরণে নিজের পিলাটিস স্টুডিও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অভিযানের সদস্য সোহাইল সাখি ছিলেন একজন পর্বতারোহী গাইড, ভূগোলবিদ এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের আলোকচিত্রী। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্গ আরোহণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।
উদ্ধারকারী দল এখনও নিখোঁজ ছয়জনের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পরিবেশের কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
