জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন, শহীদ মিনার এলাকা এবং সংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একাধিক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মকবুল হোসেন জানান, বেলা একটার পর থেকেই আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। বিকেল চারটা পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন চিকিৎসা নেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন তখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন। বেশির ভাগ আহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। গুরুতর আহত চার থেকে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি সেমিনারের আয়োজন করে। সকাল ১১টার দিকে জকসুর নেতা-কর্মীরা কয়েকটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত শেষ করা, অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ, মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগের দাবি তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জকসু নেতাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে জকসু নেতারা মিলনায়তনের প্রবেশপথের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে ইনকিলাব মঞ্চের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। সেমিনার শেষ হওয়ার পর শহীদ মিনারের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে।
জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদলের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও অবস্থান কর্মসূচির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া অভিযোগ করেন, সেমিনার শেষে শহীদ মিনারের সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁর দাবি, হামলায় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, জকসুর ভিপি, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মারধরের শিকার হন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউজিসি চেয়ারম্যানকে অপমান করার উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবির ও তাদের সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাঁদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তাঁরা তা মানেননি। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তাঁর দাবি, ছাত্রদলেরও অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের পর আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বেলা তিনটা ও বিকেল পাঁচটার দিকে হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসা নিতে আসা জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ওই হামলায় অংশ নেন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
