দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কয়েকজন সংসদ সদস্যের বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের করের অর্থে জনপ্রতিনিধিরা বিমানযোগে দিল্লি গিয়ে রাজনৈতিক বৈঠক করছেন, অথচ সাধারণ মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলেখা মিত্র লেখেন, যদি তিনি ক্ষমতাসীনদের মতো সুবিধাপ্রাপ্ত হতেন, তাহলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বিমানে চড়ে দিল্লি গিয়ে ‘পার্লামেন্ট পার্লামেন্ট’ খেলতে পারতেন। একই পোস্টে তিনি এফআইআর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, বডি শেমিং ও স্লাট শেমিংয়ের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি টলিউডের অনেক ব্যক্তিত্বের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অভিনেত্রীর বক্তব্যে মূলত অভিযোগ করা হয়, সাধারণ মানুষ নিজেদের মত প্রকাশ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও আইনি চাপের মুখে পড়লেও রাজনৈতিক নেতারা জনগণের অর্থ ব্যয় করে বৈঠক ও সফর চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভাইরাল হওয়া ছবিটি দিল্লির বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন সংসদ সদস্য ছাড়াও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজ্যসভার তিন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ সদস্য সুখেন্দু শেখর রায় সাংবাদিকদের বলেন, এটি ছিল কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। বৈঠকের আলোচনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে বৈঠকে অংশ নেওয়া সংসদ সদস্য প্রকাশ চিক বরাইক জানান, তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং রাজ্যের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ডাকা একটি প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্টার প্রদর্শনের অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন।
