জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার থেকে বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের ভেতরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সব প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাই করছেন। বৈধ আইডি কার্ড প্রদর্শনের পরই শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। যাদের কাছে পরিচয়পত্র ছিল না, তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, তিনটি ছাত্রসংগঠনের ঘোষিত সভা-সমাবেশকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে দিনের জন্য ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে অনেক শিক্ষার্থীকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সব সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনার, ভাষাশহীদ রফিক ভবন, অবকাশ ভবন ও ভাস্কর্য চত্বরে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা অবকাশ ভবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) কার্যালয়ে অবস্থান করেন।
এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইস উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক ভবনে অপেক্ষা করছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
