রবীন্দ্র প্রয়াণদিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হবে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘সুভা’। প্রায় ২১ বছর পর আবারও টেলিভিশনের পর্দায় ফিরছে ছবিটি। এ উপলক্ষে নিজের অভিনয়জীবন, নতুন সিনেমা এবং দেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছেন চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা।
পূর্ণিমা বলেন, “২১ বছর! মনে হচ্ছে, এই তো সেদিন। ‘সুভা’ আমার অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম, যা আমাকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে।”
তিনি জানান, রাবেয়া খাতুনের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘মেঘের পরে মেঘ’ দিয়ে সাহিত্যভিত্তিক চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘শাস্তি’ এবং ‘সুভা’—তিনটি ছবিই নির্মাণ করেন প্রয়াত পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
পূর্ণিমার ভাষ্য, ‘সুভা’ তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে কঠিন চরিত্রগুলোর একটি। ছবিতে তিনি একজন বোবা ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেন।
তিনি বলেন, “এখন ২১ বছর পর ভাবলে অবাক লাগে, এত কঠিন একটি চরিত্র তখন কীভাবে করেছি!”
অভিনেত্রীর মতে, ছবিটির আরেকটি বিশেষ দিক ছিল এটি শাকিব খানের প্রথম সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র। এর আগে তাঁরা একসঙ্গে বাণিজ্যিক সিনেমায় কাজ করলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
শুটিংয়ের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে পূর্ণিমা বলেন, এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টসাধ্য কাজ।
তিনি জানান, পুবাইলে ভাদ্র মাসের প্রচণ্ড গরমে শুটিং করতে হয়েছে। এতটাই গরম ছিল যে পোশাক মুহূর্তেই ঘামে ভিজে যেত। পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম তাঁকে এবং শাকিব খানকে চরিত্রের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুত করেছিলেন।
পূর্ণিমা বলেন, “এই ছবির জন্য শাকিবও অনেক কষ্ট করেছে। তখন সে নাচ, গান ও অ্যাকশনধর্মী ছবিতে খুব ব্যস্ত ছিল। কিন্তু ‘সুভা’র জন্য অন্য কোনো কাজ করেনি। ছবি মুক্তির পর দর্শক একজন ভিন্নধর্মী অভিনেতা হিসেবে শাকিবকে দেখতে পেয়েছিলেন।”
দীর্ঘদিন নতুন কোনো চলচ্চিত্রে দেখা না যাওয়ার বিষয়ে পূর্ণিমা বলেন, তিনি অভিনয় থেকে দূরে থাকতে চান না। তবে এমন গল্প ও চরিত্রের অপেক্ষায় আছেন, যা তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারে।
তাঁর ভাষায়, “নতুন ছবির প্রস্তাব আসছে, কিন্তু কনভিন্স হওয়ার মতো গল্প পাচ্ছি না। পরিচালকের ভাবনা, গল্প এবং চরিত্র—এই তিনটি বিষয় আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমার অবস্থান বিবেচনায় রেখেই গল্প তৈরি হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, উপমহাদেশের অনেক প্রবীণ অভিনেত্রীকে সময়োপযোগী চরিত্রে সফলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের নির্মাতাদেরও তাঁকে নতুনভাবে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের চলচ্চিত্রে গল্প বলার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পূর্ণিমা। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরেই সেন্সর ও কাটছাঁটের কারণে নির্মাতারা স্বাধীনভাবে গল্প বলতে পারছেন না।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে এখনো কাটাকাটির ভয় রয়েছে। অথচ বাইরের দেশের সিনেমায় গল্পের প্রয়োজনে যা দরকার, তা-ই দেখানো হয়। আমাদের চারপাশে অসংখ্য সত্য ঘটনা রয়েছে, যেগুলো নিয়ে দর্শকপ্রিয় সিনেমা তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু স্বাধীনতার অভাবে অনেক নির্মাতা সেসব গল্প নিয়ে কাজ করতে পারেন না।”
নিজের অভিনয়জীবনে নতুন ধরনের চরিত্রে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন পূর্ণিমা। তিনি জানান, দর্শক তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে রোমান্টিক ও ইতিবাচক চরিত্রে দেখে অভ্যস্ত। এবার তিনি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করতে চান।
পূর্ণিমা বলেন, “আমার খুব ইচ্ছে ভিলেন বা নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করার। এমন চরিত্র করতে চাই, যাকে দেখে দর্শকের ঘৃণা জন্মাবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে এমন চরিত্রে ভাবেননি।”
