বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে শিল্প ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন তাঁরা।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। মিশরের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে দুই দেশই এর সুফল পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, ‘চামড়া, হালকা প্রকৌশল, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন শিল্প খাতে বাংলাদেশ ও মিশরের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে এসব খাতে আরও উন্নয়ন সম্ভব।’
মিশরের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাংলাদেশের বাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে মিশরের উদ্যোক্তারা নতুন ব্যবসার সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি দেশের শিল্প খাত ও কর্মসংস্থানের পরিধিও বাড়বে।
বৈঠকে মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মিশর বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী। এ জন্য শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিদ্যমান সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
