দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ সোমবার থেকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে গোপালগঞ্জের সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হচ্ছে। বিকেল ৫টায় কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর রেলস্টেশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন এ ট্রেনসেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কে এম বাবর।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের স্বাক্ষর করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, উদ্বোধনের দিন ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনটি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে। পরে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে। গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ট্রেনটি রাজধানীতে পৌঁছাবে। প্রতি শনিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।
ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ যাওয়ার পথে ট্রেনটি কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, শিবচর, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা ও মহেশপুর স্টেশনে থামবে।
আটটি কোচ নিয়ে চলবে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’। এতে মোট আসন রয়েছে ৬০৯টি। সাধারণ শ্রেণির সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৫ টাকা।
বর্তমানে বাসে ঢাকা-গোপালগঞ্জ যাতায়াতে একজন যাত্রীকে প্রায় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। ফলে তুলনামূলক কম ভাড়ায় ট্রেন চালু হওয়ায় সাধারণ ও নিম্নআয়ের যাত্রীদের জন্য যাতায়াতের খরচ কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ রেলসেবার সুবিধা গোপালগঞ্জের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর, বাগেরহাট ও নড়াইল জেলার মানুষও পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালুর খবরে গোপালগঞ্জের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, কম সময়ে ও কম খরচে যাতায়াতের সুযোগের পাশাপাশি নিরাপদ রেল যোগাযোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গোপালগঞ্জ ইসলামপাড়ার বাসিন্দা ওসিকুর রহমান খান বলেন, স্বল্প খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ রেল যোগাযোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। সড়কপথের তুলনায় কম ভাড়ায় চলাচলের সুযোগ থাকায় ট্রেনটি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও বেড়েছে।
গোপালগঞ্জের রেলযান পরীক্ষক পল্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। তিনি জানান, গোপালগঞ্জ কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় ভবিষ্যতে ট্রেনে অতিরিক্ত লাগেজ ভ্যান যুক্ত করা গেলে কৃষকেরা কম খরচে শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য ঢাকার বাজারে পাঠানোর সুযোগ পাবেন।
কাশিয়ানী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার অনিক বিশ্বাস বলেন, এর আগে রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল করলেও ঢাকার সঙ্গে গোপালগঞ্জের সরাসরি ট্রেনসেবা ছিল না। নতুন সার্ভিস চালুর ফলে সড়কপথের যানজট ও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার চাপ কমবে। যাত্রীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া গেলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।
