বিশ্বরাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্র–চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং অর্থনীতি ও প্রযুক্তি নিয়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারত ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বসতে যাচ্ছে ব্রিকসের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলন। তবে সম্প্রসারিত এই জোটের ভেতরে চীন–ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ইরান–সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতপার্থক্য এবং সদস্যদের পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক ভারতের নেতৃত্বকে কঠিন ভারসাম্যের মুখে ফেলেছে।
বিশ্বব্যবস্থায় একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কাঠামোর ওপর চ্যালেঞ্জ বাড়ছে, অন্যদিকে চীন, ভারত, রাশিয়াসহ উদীয়মান শক্তিগুলো নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে পুরোনো জোট ও নির্ভরতার কাঠামোও বদলাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেই ব্রিকসের নেতৃত্ব নিয়েছে ভারত।
ভারত ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেয়। এর আগে ২০২৫ সালে এ দায়িত্বে ছিল ব্রাজিল। ভারতের ঘোষিত মূলমন্ত্র—‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’। এর মাধ্যমে নয়াদিল্লি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহযোগিতামূলক ও মানবকেন্দ্রিক ব্রিকসের ধারণা তুলে ধরেছে।
তবে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের গবেষক অমিত রঞ্জন জানুয়ারির এক বিশ্লেষণে লিখেছিলেন, ভারত এমন একটি ব্রিকসের নেতৃত্ব নিয়েছে, যার সদস্যদের মধ্যে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে মূলমন্ত্র নির্ধারণের চেয়ে ভিন্ন স্বার্থের দেশগুলোকে অভিন্ন লক্ষ্য ও কর্মপথে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।
ব্রিকসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে এর সম্প্রসারণে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গড়ে ওঠা জোটে এখন ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়াও যুক্ত হয়েছে। ফলে জোটটির অর্থনৈতিক ও জনমিতিক গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের হিসাবে, সম্প্রসারিত ব্রিকস বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৪ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
তবে সদস্যসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের বৈচিত্র্যও বেড়েছে। চীন ও ভারত একই জোটের সদস্য হলেও এশিয়ায় প্রভাব ও শক্তির ভারসাম্য নিয়ে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে; একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গেও নয়াদিল্লির সম্পর্ক গভীর হয়েছে। আবার ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যেও রয়েছে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও স্বার্থের সংঘাত।
ফলে ব্রিকসের শক্তির অন্যতম ভিত্তি তার বৈচিত্র্য হলেও সেই বৈচিত্র্যই অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বে সবচেয়ে জটিল সমীকরণ চীনকে ঘিরে। দুই দেশই এশিয়ার প্রধান শক্তি এবং ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সীমান্ত বিরোধ, বাণিজ্য, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। পাশাপাশি সম্পর্ক স্থিতিশীল করার উদ্যোগও চলছে।
জানুয়ারিতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি সফর করে ভারতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পর্যায়ের যোগাযোগ। একই সময়ে শাকসগাম উপত্যকায় চীনের অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে দিল্লি ও বেইজিং পরস্পরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য ব্রিকসের নেতৃত্ব একই সঙ্গে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার ভারসাম্য রক্ষার পরীক্ষা। ব্রিকসকে চীনবিরোধী মঞ্চে পরিণত করার চেষ্টা করলে জোটটির অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও দুর্বল হতে পারে। আবার চীনের সঙ্গে অতিরিক্ত সমঝোতা ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্ন তুলতে পারে।
তাই বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে—যেখানে দুই দেশের স্বার্থ মেলে সেখানে সহযোগিতা এবং যেখানে সংঘাত রয়েছে সেখানে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা; তবে দ্বিপক্ষীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে যেন পুরো ব্রিকসের কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে না দেওয়া হয়।
ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা আসে মে মাসে। ১৪ ও ১৫ মে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে সদস্যদেশগুলো অভিন্ন যৌথ বিবৃতিতে একমত হতে পারেনি। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানগত পার্থক্য এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
শেষ পর্যন্ত ভারত সভাপতির পক্ষ থেকে পৃথক ‘সভাপতির বিবৃতি’ ও ফলাফল নথি প্রকাশ করে। সেখানেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সদস্যদের মতপার্থক্যের বিষয়টি স্বীকার করা হয়। বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগও তোলে।
ঘটনাটি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে। ভারতের একদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কও বজায় রাখতে হচ্ছে।
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে তার সরাসরি প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় পড়তে পারে।
অতএব ব্রিকসকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভারতকে শুধু বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতা নয়, সদস্যদেশগুলোর পারস্পরিক আঞ্চলিক বিরোধও সামলাতে হচ্ছে।
ব্রিকসকে ‘পশ্চিমবিরোধী জোট’ হিসেবে দেখার প্রবণতা থাকলেও বাস্তবতা এতটা সরল নয়। জোটটির অনেক সদস্য আন্তর্জাতিক আর্থিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব কমাতে আগ্রহী। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।
কিন্তু এসব মিলকে অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান বলা যায় না। পশ্চিমা বিশ্বের বিষয়ে সদস্যদেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি যেমন ভিন্ন, তেমনি বিশ্বব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিয়েও তাদের অগ্রাধিকার এক নয়।
ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক গভীর, আবার রাশিয়ার সঙ্গেও রয়েছে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। চীনের সঙ্গে নয়াদিল্লির ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা পাশাপাশি চলছে। ফলে ব্রিকসের সদস্যরা পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে অসন্তুষ্ট হলেও সবাই পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায়—এমন কোনো বাস্তবতা নেই।
বরং ব্রিকসের সম্ভাব্য ভূমিকা হতে পারে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় সদস্যদের স্বার্থ ও প্রভাব বাড়ানোর জন্য দর-কষাকষির একটি কার্যকর মঞ্চ হিসেবে কাজ করা। ভারতের ‘সংস্কার করা বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা’র ধারণাও এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি ভেঙে ফেলার বদলে সেখানে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাব বাড়ানো।
ভারতের কৌশল শুধু ব্রিকসকে ঘিরে নয়। একদিকে নয়াদিল্লি ব্রিকসের নেতৃত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কও জোরদার করছে। এর অর্থ, ভারত নিজেকে কোনো একটি শক্তিশিবিরের মধ্যে পুরোপুরি আবদ্ধ না রেখে একাধিক শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে।
ব্রিকস সেই বৃহত্তর কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারত চাইবে না, ব্রিকস এমন সংগঠনে পরিণত হোক যা তাকে পশ্চিমা বিশ্বের বিপরীতে দাঁড় করায়। বরং এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বৈশ্বিক দক্ষিণে নিজের প্রভাব ও নেতৃত্বের দাবি জোরদার করা, চীনের সঙ্গে একই মঞ্চে থেকে নিজের স্বার্থ ও প্রভাবের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখাই নয়াদিল্লির লক্ষ্য হতে পারে।
এই ভারসাম্য রক্ষা ভারতের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। ব্রিকসের সভাপতিত্ব সেই নীতির অন্যতম কঠিন পরীক্ষা।
ভারতের সভাপতিত্বের সাফল্য শুধু নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর একটি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরই এর কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।
প্রথমত, চীন, রাশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ভিন্ন স্বার্থের দেশগুলোর মধ্যে ভারত ন্যূনতম কার্যকর সমঝোতা তৈরি করতে পারে কি না।
দ্বিতীয়ত, ব্রিকস এমন কোনো কার্যকর অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারে কি না, যা সদস্যদের বাস্তব সুফল দেবে।
তৃতীয়ত, বৈশ্বিক দক্ষিণের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবিকে বাস্তব কূটনৈতিক উদ্যোগে রূপ দেওয়া সম্ভব কি না।
চতুর্থত, সদস্যসংখ্যা বাড়লেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে সম্প্রসারিত ব্রিকসকে কার্যকর কাঠামোয় পরিচালনা করা যায় কি না।
মে মাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক দেখিয়েছে, ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এখন আর কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয়; ভারতের নেতৃত্বের সময়েই তা বাস্তব কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
ভারতের সামনে তাই একই সঙ্গে দুটি দায়িত্ব—ব্রিকসের প্রভাব ও পরিধি বাড়ানো এবং এমন কোনো অবস্থান না নেওয়া, যাতে সদস্যদের বড় অংশ সংগঠনটিকে নিজেদের স্বার্থবিরোধী মনে করে।
ব্রিকসের সব সদস্য সব বিষয়ে একমত হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। বরং ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য নির্ভর করতে পারে মতপার্থক্যকে এমন পর্যায়ে রাখার ওপর, যাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো অকার্যকর না হয়।
অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জলবায়ু, উন্নয়ন, জ্বালানি এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারের মতো ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে রাজনৈতিক বিভাজন জোটটির কার্যকারিতা পুরোপুরি নষ্ট করতে পারবে না। মতপার্থক্যকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সচল রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
আগামী সেপ্টেম্বরের নয়াদিল্লি শীর্ষ সম্মেলন তাই ব্রিকসের আরেকটি নিয়মিত বৈঠকের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় ভারতের কূটনৈতিক সক্ষমতারও এটি বড় পরীক্ষা।
ভারত ব্রিকসকে নিজের প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে, নাকি ভিন্ন স্বার্থের শক্তিগুলোকে একই টেবিলে রেখে একটি কার্যকর বহুপক্ষীয় মঞ্চ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে—মূল প্রশ্ন সেটিই। এর উত্তর শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির জন্য নয়, আগামী দিনের বিশ্বব্যবস্থা কতটা বহুমেরুকেন্দ্রিক, কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল হবে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
