ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গাড়ি চালানো শেখার সময় পুকুরে পড়ে সুমিত্রা দাস নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। কলকাতার কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কানন এলাকায় স্বামীর গাড়ি নিয়ে অনুশীলনের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় উদ্ধার অভিযান চালানোর পর পানিতে ডুবে থাকা গাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর এনডিটিভির।
স্থানীয় এক বাসিন্দার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সুমিত্রা তাঁর মেয়েকে স্কুটারে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়িতে ফেরেন। কিছুক্ষণ পর গ্যারেজ থেকে স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাসের হুন্ডাই ইয়ন গাড়িটি বের করে চালানোর অনুশীলন শুরু করেন। এর কিছু সময় পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পুকুরে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এক ঘণ্টার বেশি সময় চেষ্টা চালানোর পর গাড়িটি পুকুর থেকে তুলে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে সুমিত্রাকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।
গাড়িটি পানি থেকে ওঠানোর পর ভেতরে সুমিত্রার মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর মুখ গাড়ির পেছনের দরজার দিকে এবং পা স্টিয়ারিংয়ের কাছে ছিল। এতে তিনি পানিতে গাড়ি ডুবে যাওয়ার পর বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সুমিত্রার স্বামী কৃষ্ণেন্দু সম্প্রতি গাড়িটি কিনেছিলেন। আগামী ২২ আগস্ট সুমিত্রার ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। ওই পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবেই তিনি নিয়মিত গাড়ি চালানোর অনুশীলন করছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর সময় অনভিজ্ঞ সুমিত্রা ভুল করে ব্রেকের পরিবর্তে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেন। এতে গাড়িটি দ্রুতগতিতে পুকুরের দিকে চলে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়।
সুমিত্রার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
