বর্ষার পানিতে টইটম্বুর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিল। দুই বছর পর আবারও বিলজুড়ে ফুটেছে হাজারো লাল ও গোলাপি পদ্ম। সবুজ পাতার বিস্তীর্ণ গালিচার মাঝে ফুটে থাকা পদ্মের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের প্রকৃতিপ্রেমী ও সৌন্দর্যপিয়াসীরা।
উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত সোনাকান্ত বিলটি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বিঘা নিচু জমি নিয়ে গঠিত। জমিগুলো মূলত ব্যক্তিমালিকানাধীন। বছরের বেশির ভাগ সময় এখানে এক ফসলি ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়। বর্ষায় জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়ে বিশাল জলাশয়ের রূপ নেয়।
স্থানীয় আমডাঙ্গা, সড়াতৈল, অলিপুর ও বাগদা গ্রামের মানুষের জমিতে ২০১৪ সাল থেকে প্রাকৃতিকভাবে পদ্ম ফুটতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান ও শিক্ষাবিদ আব্দুল মান্নান তালুকদার জানান, গত বছর বন্যা না থাকায় পদ্মের সংখ্যা ছিল কম। এবার টানা বর্ষণে বিল পানিতে পূর্ণ হওয়ায় আবারও আগের রূপ ফিরে পেয়েছে।
সোনাকান্ত বিলের পদ্ম শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে না, স্থানীয় অসচ্ছল পরিবারের কয়েকজন শিশুর আয়েরও উৎস হয়েছে। সাজু, রিতা, তামিম ও সোহেলসহ কয়েকজন শিশু বিলের পানিতে নেমে কাঁটাযুক্ত পদ্মগাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করে।
তারা প্রতিটি পদ্ম ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে। এতে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয় তাদের। শ্রাবণ ও ভাদ্র—এই দুই মাস পদ্ম ফোটা ও ফুল বিক্রির সময়টিতে বিলের মালিকেরা শিশুদের ফুল সংগ্রহে বাধা দেন না।
সিরাজগঞ্জ শহর থেকে সোনাকান্ত বিলে ঘুরতে আসা সুমাইয়া খাতুন, সাদিয়া, রাব্বি ও মোস্তাকের ভাষ্য, শহরের ইট-কাঠের কোলাহল থেকে দূরে বিলটি যেন প্রশান্তির জায়গা। পানিতে ভাসা সবুজ পাতার মধ্যে লাল ও গোলাপি পদ্মের দৃশ্য তাঁদের মুগ্ধ করেছে।
তবে দর্শনার্থীদের কিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। উলিপুর-সড়াতৈল আঞ্চলিক সড়ক থেকে বিল পর্যন্ত মাটির পথটি এখনো কাঁচা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় বিলে ঘোরার ক্ষেত্রেও কিছুটা ভোগান্তি হয়।
দর্শনার্থীদের মতে, জলাশয় ভরাটের কারণে দেশের অনেক পদ্মবিল যখন হারিয়ে যাচ্ছে, তখন সোনাকান্ত বিলের প্রাকৃতিক পদ্মবন টিকে থাকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম এবং ভূমিমালিক নজরুল ইসলাম ও সামসুল হক বলেন, বর্ষায় সোনাকান্ত বিলের দৃশ্য সম্পূর্ণ বদলে যায়। পদ্মে ভরে ওঠা বিল তখন নান্দনিক সৌন্দর্যের এক ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, পাখির মাধ্যমে পদ্মের বীজ ছড়িয়ে পড়ায় প্রাকৃতিকভাবেই এর বিস্তার ঘটেছে। তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করে বলেন, মৌসুমি হলেও পদ্মে সজ্জিত সোনাকান্ত বিল বর্তমানে সিরাজগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর স্থান হয়ে উঠেছে।
