ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। সংস্থাটির সদস্যরা তাঁর সফরের সময় কোনো ধরনের কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানোর পাশাপাশি আরএসএসের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মোহন ভাগবতের। নিউইয়র্কে একটি রাখিবন্ধন উৎসবে অংশ নেবেন তিনি। ‘আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ নামের একটি সংগঠন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা ও ইংল্যান্ডেও সফর করার কথা রয়েছে তাঁর।
ইউএসসিআইআরএফের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভাগবতের সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে আরএসএসের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো খ্রিষ্টান, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুর ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে।
ইউএসসিআইআরএফের সদস্য জেন মিলসও ভাগবতের সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ভাগবতকে কোনো কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানো বা সরকারি পর্যায়ে বৈঠক করা উচিত নয়। বরং আরএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তবে ইউএসসিআইআরএফের এই দাবির বিষয়ে ভারত সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে ‘হিন্দুজ ফর হিউম্যান রাইটস’ নামের একটি সংগঠনও ভাগবতের সফরের সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, রাখিবন্ধনের মতো ঐক্যের বার্তা বহনকারী আয়োজনের মাধ্যমে আরএসএসের ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্যের মতাদর্শ আড়াল করা সম্ভব নয়।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে ইউএসসিআইআরএফ ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ তুলে আরএসএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছিল। একই সঙ্গে ভারতকে ‘বিশেষভাবে উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করারও পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।
তবে ইউএসসিআইআরএফের সুপারিশ মার্কিন সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ওই প্রতিবেদনের সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল প্রতিবেদনটিকে একপেশে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছিলেন।
জয়সোয়ালের বক্তব্য ছিল, ভারত একটি বহুত্ববাদী ও মিশ্র সংস্কৃতির দেশ। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে সামনে এনে ভারতের প্রাণবন্ত বহুত্ববাদী ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি উল্টো ইউএসসিআইআরএফকে ‘উদ্বেগজনক সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করার কথা বলেছিলেন।
