ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক প্রদেশ পুরোপুরি দখলের লক্ষ্যে চলতি বছরের শেষ দিকে রাশিয়া আরও অন্তত ৩ লাখ সেনা যুদ্ধে পাঠাতে পারে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, চলতি বছর যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক রুশ সেনা হতাহত হলেও বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ইউক্রেনের বর্তমান নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে না।
জেলেনস্কির দাবি, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার রুশ সেনা হতাহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১ লাখ ৫৫ হাজার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, সামনে রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রাশিয়া নতুন করে সেনা সংগ্রহ শুরু করতে পারে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর জেনারেলদের চলতি বছরের মধ্যেই পুরো দোনেৎস্ক দখলের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন জেলেনস্কি। নতুন করে সংগ্রহ করা ৩ লাখ সেনাকে এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করা হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।
তবে সম্ভাব্য এই রুশ অভিযানের মোকাবিলায় ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি।
এদিকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনেক কম ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ১০ শতাংশ ইউক্রেনকে দেওয়া হলেও কিয়েভ সেগুলো কিনতে প্রস্তুত। পাশাপাশি নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর কাজও চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়ানোও এর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিভিন্ন উপায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত আলোচনা চালালেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
সূত্র: সিএনএন।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার আরও ৩ লাখ সেনা মোতায়েনের বিষয়টি জেলেনস্কির দাবি; প্রতিবেদনে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ দাবির কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
