ইতালির সিরি ‘আ’র ক্লাব কোমো তাদের যুব একাডেমিতে ১১ বছরের কম বয়সী ফুটবলারদের জন্য হেডিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। খেলোয়াড়দের মাথায় আঘাতের ঝুঁকি কমানো, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যেই নতুন এ নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায় থেকে সীমিত পরিসরে নিয়ন্ত্রিতভাবে হেডিং শেখানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে ক্লাবটি।
ফুটবলে কর্নার কিক বা ক্রস থেকে আসা বলে হেড করা দীর্ঘদিন ধরেই আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সেই প্রচলিত ধারণা থেকে সরে এসে ইতালির ক্লাব কোমো তাদের একাডেমির ১১ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়দের জন্য হেডিং নিষিদ্ধ করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এ বয়সভিত্তিক ম্যাচে কর্নার কিক থেকে বল বক্সে ভাসিয়ে দেওয়া হবে না। পরিবর্তে কর্নারের বদলে মাটিতে থ্রো-ইনের মাধ্যমে খেলা পুনরায় শুরু হবে। শুধু নিয়মিত ম্যাচ নয়, সংশ্লিষ্ট টুর্নামেন্টেও একই বিধান কার্যকর থাকবে।
ক্লাবটির ভাষ্য, ছোট বয়সে খেলোয়াড়দের হেডিং শেখানোর পরিবর্তে বল নিয়ন্ত্রণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। শারীরিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর ধাপে ধাপে তাদের হেডিং শেখানো হবে।
এ লক্ষ্যে অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায়ে সীমিত আকারে হেডিং অনুশীলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। মৌসুমের শেষ দিকে হালকা রাবারের বল ব্যবহার করে এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে। মাসে একবারের বেশি অনুশীলন করা যাবে না এবং প্রতিটি সেশনে একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ পাঁচবার হেড করতে পারবেন।
শুধু ছোটদের নয়, একাডেমির বড় বয়সী ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও হেডিং অনুশীলনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে কোমো। কোচদের অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত হেডিং করানো থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত বাতাস ভর্তি শক্ত বল ব্যবহার না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হলো এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব এমন মাথার আঘাত কমানো, খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং তাদের টেকনিক্যাল উন্নয়নের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই পরিবর্তনের মূল ভাবনা খুবই সহজ। প্রথমে তরুণ খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দেওয়া, তারপর তারা প্রস্তুত হলে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এই কৌশল শেখানো। ছোট বয়সে মনোযোগ থাকবে বলের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো, কার্যকর খেলার সময় বৃদ্ধি এবং ধাপে ধাপে আত্মবিশ্বাস ও টেকনিক গড়ে তোলার ওপর।”
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কোমোর বোর্ড অব এডুকেশনের সদস্য এবং সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে। রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই ফুটবলার দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবলে মাথায় আঘাতজনিত ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পক্ষে কথা বলে আসছেন।
ভারানে বলেন, “ফুটবলে মাথায় আঘাতের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া এবং আমাদের শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা আমি আগেও বলেছি। ছোট খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে ভালো পথ হলো স্পষ্ট নিয়ম, ভালো কোচিং এবং এমন একটি পরিবেশ, যেখানে সবার আগে গুরুত্ব পাবে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা।”
তিনি আরও বলেন, “এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে কম বয়সে অপ্রয়োজনীয় মাথার সংস্পর্শ কমানো হবে, যখন মস্তিষ্ক এখনো বিকাশমান। এরপর সঠিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে হেডিংয়ের কৌশল শেখানো হবে।”
ফুটবলে বারবার হেড করার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে। বিশেষ করে কনকাশন এবং অন্যান্য মস্তিষ্কজনিত সমস্যার সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় কোমোর এই উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
