বর্ষাকালে শাকসবজি পুষ্টিকর হলেও এ সময় তা খাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃষ্টি, কাদা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শাকপাতায় জীবাণু, পরজীবী এবং ময়লা জমার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যথাযথভাবে পরিষ্কার না করে শাক খেলে ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, বমি ও বিভিন্ন ধরনের পেটের সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার সময় অধিকাংশ শাক মাটির খুব কাছাকাছি জন্মায় এবং বৃষ্টির পানি ও কাদার সংস্পর্শে সহজেই দূষিত হয়। ফলে এ সময় শাকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণুর উপস্থিতি বেড়ে যেতে পারে। তবে এ কারণে শাক খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই; বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিষ্কার করে রান্না করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
শাক পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রথমে দুই থেকে তিনবার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। পচা বা নষ্ট পাতা আলাদা করে ফেলে দেওয়ার পর একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে এক চামচ লবণ মিশিয়ে পাঁচ মিনিট শাক ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে কাদা-মাটি ও কিছু জীবাণু পানির নিচে জমা হয়। এরপর আবার পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করতে হবে।
রান্নার সময়ও কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে অল্প তেল ও কম মসলায় শাক রান্না করা ভালো। রান্নার আগে কিছুক্ষণ গরম পানিতে শাক ভাপিয়ে সেই পানি ফেলে দিলে দূষণের ঝুঁকি আরও কমে। পরে বরফঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে নিলে শাকের রং ও পুষ্টিগুণ অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে।
কিছু শাকের ক্ষেত্রে বর্ষায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নটে শাক, পালং শাক, কলমি শাক ও মেথি শাক সাধারণত মাটির খুব কাছাকাছি জন্মায় এবং দীর্ঘ সময় কাদা-পানির সংস্পর্শে থাকে। তাই এসব শাক খাওয়ার আগে বিশেষভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।
অন্যদিকে লাউ শাক, পুঁই শাক ও কুমড়ো শাক তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তবে যে ধরনের শাকই খাওয়া হোক না কেন, তা অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
