গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক পোস্ট নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ডের দাবি
অভিনেত্রী, নির্মাতা ও উপস্থাপক মেহের আফরোজ শাওনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্কের পর তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আর দৃশ্যমান না থাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
রোববার শাওনের ঘনিষ্ঠজন ও লেখক তামান্না সেতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর রিপোর্টের কারণে শাওনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
তামান্না সেতুর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত যে পোস্টটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, সেটি শাওন নিজে মুছে ফেলেননি। বরং বিপুল রিপোর্টের পর পুরো অ্যাকাউন্টই সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন শাওন এবং সেখান থেকেই তিনি তথ্যটি জেনেছেন।
সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে শাওনের একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পোস্টটির ভাষা ও বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা যায় এবং বিষয়টি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ তুলে শাওনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী সংগঠন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতারা দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কিছু ব্যক্তি এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত শাওনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে Meta-ও অ্যাকাউন্টটির বর্তমান অবস্থা বা সম্ভাব্য সাসপেনশন নিয়ে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
ফলে অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি আপাতত শাওনের ঘনিষ্ঠজনের দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।
ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার প্রয়োগ হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জনপরিচিত ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য প্রায়ই জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ফলে এমন পরিস্থিতিতে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং আনুষ্ঠানিক অবস্থানের জন্য অপেক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত পোস্টের পর মেহের আফরোজ শাওনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্টটি সত্যিই সাসপেন্ড হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টির চূড়ান্ত অবস্থান জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।
