জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়ার ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। তাঁর ভাষ্য, জার্মানি এখন গুরুতর হুমকির মুখে এবং দেশটি ধীরে ধীরে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
গত ৪ আগস্ট পূর্ব জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন পাওয়া যায়। ওই সময় বিমানবন্দরে ইউক্রেনের কয়েকটি কার্গো বিমানও অবস্থান করছিল। তবে ড্রোনে থাকা বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণ ঘটানোর যন্ত্রে ত্রুটির কারণে সেটি বিস্ফোরিত হয়নি।
পরে পুলিশ বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করে। তদন্তকারীদের ধারণা, কাছাকাছি থাকা একটি কার্গো বিমানের সঙ্গে আরেকটি ড্রোনের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটতে পারে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এ ঘটনার পেছনে রাশিয়ার হাত থাকার আশঙ্কা করছেন। তবে জার্মান সরকার এখন পর্যন্ত সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেনি। মস্কোও অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা পরে লাইপজিগ বিমানবন্দরের কাছাকাছি আরও একটি ড্রোন খুঁজে পান। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনডিআর ও ডব্লিউডিআর এবং সংবাদপত্র সুদডয়চে সাইটুং জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছে হেক্সোজেন নামের সামরিক বিস্ফোরকের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
নিউহার্ডেনবার্গে সরকারি জোটের এক বৈঠকের ফাঁকে মের্জ বলেন, জার্মানি এমন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, যার কয়েকটির উৎস দেশের বাইরে। এসব বিষয় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতি, এমনকি মানুষের আহত বা নিহত হওয়ার ঝুঁকি নিতেও তারা প্রস্তুত।
মের্জ জানান, সরকার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং শিগগিরই এ ঘটনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দর জার্মান সামরিক বাহিনী এবং ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ইউক্রেনের অ্যান্টোনভ এয়ারলাইনসের একটি ঘাঁটিও। প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনের বড় একটি অংশের আকাশপথে পণ্য পরিবহন করে।
আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিএইচএলের কার্যক্রমের জন্যও বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে জার্মানির সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, জ্বালানি টার্মিনাল, সমুদ্রবন্দর ও বিভিন্ন লজিস্টিক স্থাপনার ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটি অননুমোদিত ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, এসব ঘটনার কিছু রুশ এজেন্টদের পরিকল্পনা বা পরিচালনায় হয়ে থাকতে পারে।
রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন মের্জ। তাঁর দাবি, জার্মানি দৃঢ়ভাবে ইউক্রেনের পাশে রয়েছে এবং বর্তমানে দেশটি ইউক্রেনের সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থক।
তবে মের্জ বলেন, এই সমর্থনের উদ্দেশ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা নয়; বরং রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।
জার্মানিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা থেকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে শক্তিশালী ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া দেশে ও বিদেশে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জার্মানি। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে হামলাকারীদের কম্পিউটার সার্ভারে সাইবার হামলাও থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: , বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদন
