গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়, সাত বছরের দায়িত্ব শেষে সরে দাঁড়ালেন ইয়াসের আল-মিসেহাল
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার দায় কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ইয়াসের আল-মিসেহাল। জাতীয় দলের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের পর তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আল-মিসেহাল বলেন, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে না পারা দেশের ফুটবলপ্রেমী এবং সমর্থকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই ব্যর্থতার পূর্ণ দায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করছেন।
বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপে খেলেছিল সৌদি আরব। দলটি উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করলেও স্পেনের কাছে পরাজিত হয়। তিন ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে।
সৌদি ফুটবল কর্তৃপক্ষ এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল অন্তত দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছানো। তবে মাঠের পারফরম্যান্স সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়।
পদত্যাগের ঘোষণায় আল-মিসেহাল বলেন, দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে তিনি মনে করেন সৌদি ফুটবলে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন পরিকল্পনার জন্য পথ উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। সে কারণেই বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত সাত বছর ধরে সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার মেয়াদকালে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে।
আল-মিসেহাল শুধু ফেডারেশনের প্রশাসনিক প্রধানই ছিলেন না, ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব অর্জনে সৌদি আরবের সফল প্রচারণার অন্যতম প্রধান মুখও ছিলেন।
তার নেতৃত্বে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে ব্যাপক বিনিয়োগ এবং কৌশলগত প্রচারণা চালিয়ে বৈশ্বিক ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে।
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই মাস আগে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন আনা হয়। অভিজ্ঞ কোচ হার্ভে রেনার্ডের পরিবর্তে জর্জিওস ডোনিসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, টুর্নামেন্টের ঠিক আগে কোচ পরিবর্তন দলের প্রস্তুতি ও কৌশলগত স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও ব্যর্থতার জন্য শুধুমাত্র কোচিং পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুটবল উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে সৌদি আরব। দেশটির শীর্ষ ক্লাবগুলো বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের দলে ভেড়ানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
বিশেষ করে Cristiano Ronaldo এবং Neymar-এর মতো তারকা খেলোয়াড়দের সৌদি প্রো লিগে আনা দেশটির ফুটবল উন্নয়ন কৌশলের অংশ ছিল।
তবে জাতীয় দলের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে যে ক্লাব পর্যায়ে বিনিয়োগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি খেলোয়াড় উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর সৌদি ফুটবলের সামনে এখন নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং জাতীয় দলের পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তোলার চাপও বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক পরিবর্তনের এই মুহূর্ত সৌদি ফুটবলের জন্য আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুনর্নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ইয়াসের আল-মিসেহালের পদত্যাগ সৌদি ফুটবলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। বিপুল বিনিয়োগ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনের জন্য কাঠামোগত উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং স্থিতিশীল নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
