ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-ইরান সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। এর আগে একই দিন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পৌঁছান তিনি।
অনুবাদকের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। মোদির সঙ্গে তার ‘ভালো আলোচনা’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া আলোচনা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভারত ও ইরান একসঙ্গে কাজ করলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের তীব্র সমালোচনা করেন।
পেজেশকিয়ানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে চায়। তবে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না এবং চাপ বাড়ানো হলে পাল্টা জবাব দেবে বলে জানান তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্টের দাবি, ভয় দেখিয়ে ইরানকে নত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগও তোলেন তিনি।
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানে স্কুলশিশু, বিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। স্কুল ও হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি সত্যিই সাহসী হয়, তাহলে তাদের শুধু সেনা ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে লড়াই করা উচিত। বেসামরিক অবকাঠামো ও মানুষের জীবিকার ওপর হামলা কেন করা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না। তার দেশ মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে এবং পৃথিবীর সব মানুষের সমান অধিকার থাকা উচিত।
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে তাদের বৈঠক হয়েছিল।
শুক্রবারের বৈঠকে ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ব্রিকসের বিভিন্ন বৈঠকে ইরানের নিয়মিত ও উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণের জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান মোদি।
চলমান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান ব্রিকসের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর মধ্যে সহনশীলতা, নতুন চিন্তা, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের মনোভাব গড়ে তুলতে ব্রিকসের বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা। মোদি আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দেন। পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
এ ছাড়া নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রপথে চলাচলকারী নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন মোদি।
ভারত ও ইরান ব্রিকসসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় সংগঠনে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে।
