ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি আফটারশক অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন হাজারো মানুষ। দুর্গত বিভিন্ন এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) আঘাত হানা ভূমিকম্পের ক্ষত এখনো স্পষ্ট দুর্গত এলাকাগুলোতে। কোথাও সড়কে বড় ফাটল ধরেছে, আবার কোথাও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। পরবর্তী ভূমিকম্পের আশঙ্কায় অনেক মানুষ নিজেদের বাড়িতেও ফিরতে পারছেন না।
ভূমিকম্পের পর ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘরে ফেরার পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় অনেকেই তাঁবু, স্কুল ও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। একের পর এক আফটারশক পরিস্থিতিতে তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফ্লোরেস এলাকায় প্রায় ২৫০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাও রয়েছে।
দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কাজ করছে। তবে ভূমিধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে সহায়তা পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে অনেক গ্রাম এখনো প্রয়োজনীয় ত্রাণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ান রেড ক্রস জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর সুযোগ কিছুটা বাড়ায় উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলাতেও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রুটেং শহরের হাসপাতালগুলোও ক্ষতির শিকার হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে দুটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি সহায়তা এখনও অপর্যাপ্ত বলে অভিযোগ করেছেন দুর্গতরা।
এদিকে বিভিন্ন এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র হচ্ছে। দুর্গম অনেক গ্রামেই এখনও জরুরি সহায়তা পৌঁছেনি। কোথায় নিরাপদে আশ্রয় নিতে হবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে কয়েকটি এলাকায় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত দ্রুত কমে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
