দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মালয়েশিয়ার পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে চলতি মাসে ওমান সফরে যাচ্ছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সফরে তারা ওমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে প্রায় ৩২ মাস ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, মালয়েশিয়ার পর এখন সরকারের নজর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। ওমান সফরে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ৬০ থেকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি
সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেই রয়েছেন ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি।
সৌদি আরবে ২৫ থেকে ৩৫ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৭ থেকে ১২ লাখ, ওমানে প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার, কাতারে প্রায় ৪ লাখ, কুয়েতে সাড়ে ৩ লাখ এবং বাহরাইনে প্রায় দেড় লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করছেন।বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্সের বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশ থেকে।
ওমানে শ্রমিক সংকট, বাজার খুলতে চান প্রবাসীরা
ওমানে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ থাকায় ব্যবসা পরিচালনায় নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাদের মতে, বাংলাদেশি শ্রমিকরা পরিশ্রমী ও দক্ষ হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা ও শিল্প খাতে তাদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
প্রবাসীরা আশা করছেন, দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে হাজারো বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়বে।
বিভিন্ন দেশে ভিসা সীমাবদ্ধতা
২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ওমান বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন সব ধরনের ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। পরে কিছু নির্দিষ্ট পেশার জন্য সীমিত আকারে ভিসা চালু হলেও সাধারণ শ্রমিকদের জন্য ভিসা এখনো বন্ধ রয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন ওয়ার্ক ভিসা ও ট্যুরিস্ট ভিসার ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ রয়েছে। কুয়েতেও সাধারণ কর্মী ও পারিবারিক ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে লেবানন ও ইয়েমেনে নতুন ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
কাতারে নতুন সম্ভাবনা
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও কাতারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ-কাতার যৌথ কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে কাতার সরকার বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) থেকে প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিশেষ করে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং খাতে দক্ষ কর্মী নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি। বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।সরকারের আশা, দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের রেমিট্যান্স আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
