আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত বোলিং করে আফগানিস্তানকে ৯২ রানের জয় এনে দিয়েছেন রশিদ খান। ৭.৪ ওভারে মাত্র ৩৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন আফগান লেগ স্পিনার। তাঁর করা ৪৬টি বৈধ বলের ২৩টিই ছিল ডট। ওয়ানডেতে এটি রশিদের তৃতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
ওয়ানডেতে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার ঘটনা খুব বেশি নেই। এখন পর্যন্ত এই কীর্তি সবচেয়ে বেশি পাঁচবার করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার ওয়াকার ইউনিস। রশিদ তিনবার ছয় উইকেট নিয়ে এই তালিকায় তাঁর পরেই অবস্থান করছেন।
বৃষ্টির কারণে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে পরিত্যক্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচেও বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ম্যাচটি কমিয়ে ৪৭ ওভারে আনা হয়। প্রথমে ব্যাট করে ইব্রাহিম জাদরানের ৮৪ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ৮ উইকেটে ২৯৯ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান।
জবাবে শুরুটা ভালোই করেছিল আয়ারল্যান্ড। ১৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল স্বাগতিক দল। এরপর বল হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন রশিদ।
ইনিংসের ১৫তম ওভারের প্রথম বলেই অ্যান্ডি বলবার্নিকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খোলেন তিনি। নিজের পরের ওভারে হ্যারি টেক্টরকেও সাজঘরে ফেরান। এরপরও আয়ারল্যান্ডের রান তোলার গতি থামেনি। ২৯ ওভার শেষে ৫ উইকেটে তাদের সংগ্রহ ছিল ১৯৩ রান। তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১০৮ বলে ১০৭ রান।
কিন্তু এরপর রশিদের ঘূর্ণিতে দ্রুত ভেঙে পড়ে আইরিশ ব্যাটিং। নিজের পরবর্তী তিন ওভারে আরও চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। শেষ সাত উইকেটের চারটিই আসে রশিদের শিকার হিসেবে। মাত্র ৯ রানের ব্যবধানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৩৩.৪ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন কেড কারমাইকেল। অন্যদিকে আফগানিস্তানের জয়ের মূল নায়ক রশিদ খান ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন।
রশিদের ৭.৪ ওভারের বোলিংয়ে সবচেয়ে নজরকাড়া দিক ছিল ডট বলের সংখ্যা। ৪৬টি বৈধ ডেলিভারির অর্ধেক, অর্থাৎ ২৩টি বলেই কোনো রান নিতে পারেনি আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা।
তবে এটি রশিদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং নয়। ২০১৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। গত রোববার দ্য হানড্রেডে এমআই লন্ডনের হয়ে এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার মাত্র চার দিন পর ওয়ানডেতে আবার ছয় উইকেট পেলেন এই লেগ স্পিনার।
ম্যাচ শেষে রশিদ জানান, ব্রেডি ক্রিকেট ক্লাব মাঠের কন্ডিশনে বোলিং করে তিনি বেশ উপভোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে বোলিং উপভোগ করার প্রধান কারণ হলো বলের তীব্র বাঁক। বিশেষ করে এমন কন্ডিশনে স্পিন বোলিং করাটা আমার খুব পছন্দের। লেগ স্পিনারদের আসল জায়গা হলো ৫ থেকে সাড়ে ৫ মিটারের লেন্থ। স্টাম্প সোজা বোলিং করলে উইকেটের সুযোগ বাড়ে।’
এই ম্যাচের মাধ্যমে ওয়ানডেতে এক ইনিংসে অন্তত পাঁচ উইকেট নেওয়ার সংখ্যা সাতটিতে উন্নীত করেছেন রশিদ। বর্তমান সময়ের স্পিনারদের মধ্যে ওয়ানডেতে এমন কীর্তি তাঁর চেয়ে বেশি আর কারও নেই।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আগামী সোমবার বেলফাস্টে।
