সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দি শরতে পেয়েছে ভিন্ন এক রূপ। মেঘালয়ের পাহাড়ঘেরা এই এলাকায় বর্ষার পানি কমে যাওয়ায় পিয়াইন নদীতে জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য পাথর। নীল আকাশ, সবুজ পাহাড় আর স্বচ্ছ পানির সঙ্গে পাথুরে দৃশ্য মিলে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
বিছনাকান্দি জল-পাথরের শয্যার জন্য পরিচিত। বর্ষাকালে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে পিয়াইন নদী পাথরের মাঝ দিয়ে ছুটে চলে। তখন পানির স্রোত ও শব্দে মুখর থাকে পুরো এলাকা।
শরৎ আসতেই বদলে যায় সেই দৃশ্য। পানি কমে যাওয়ায় নদীর বুকজুড়ে পাথরগুলো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সবুজ পাহাড়ের পটভূমিতে তখন বিছনাকান্দিকে মনে হয় বিশাল এক পাথুরে বিছানা।
একসময় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ছিল বিছনাকান্দি। তবে যোগাযোগব্যবস্থার নাজুক অবস্থা এবং অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে সেখানে পর্যটকের উপস্থিতি কমে গিয়েছিল।
বর্তমানে যোগাযোগব্যবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হওয়ায় আবারও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে পাথুরে সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসছেন অনেকে।
শরতের বিছনাকান্দিতে পর্যটকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। কেউ স্বচ্ছ পানিতে নেমে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ পাথরের ওপর বসে পাহাড় ও জলের সৌন্দর্য দেখছেন। আবার অনেকে নৌকা থেকে নেমে পাথুরে পথে হাঁটছেন এবং দলবেঁধে ছবি তুলছেন।
পানির নিচে থাকা পাথর, দুই পাশে ছড়িয়ে থাকা পাথর আর মাঝখানের স্বচ্ছ জল মিলিয়ে শরতে বিছনাকান্দির দৃশ্য হয়ে উঠেছে আরও আকর্ষণীয়।
সবুজ পাহাড়ের কোলে শরতের নীল আকাশ আর জেগে ওঠা পাথরের সমন্বয়ে নতুন সাজে ধরা দিয়েছে সিলেটের এই পর্যটনকেন্দ্র।
