আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুসরণের ওপর জোর, তথ্য অধিদপ্তরের তথ্যবিবরণী প্রকাশ
ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য, ভাষণ, বিবৃতি বা অডিও-ভিডিও বার্তা প্রচার ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য দেশের সব ধরনের গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার। আদালতের নির্দেশনা এবং বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে অনুসরণের স্বার্থে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে সরকারি তথ্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার তথ্য অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তথ্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) পূর্বে শেখ হাসিনার বক্তব্য বা ভাষণ প্রচারের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সরকার বলছে, সেই নির্দেশনা এখনো কার্যকর রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের তা মেনে চলা প্রয়োজন।
সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের আদেশের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইনেও দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক ব্যক্তিদের বক্তব্য বা প্রচারণামূলক উপকরণ প্রকাশ ও সম্প্রচারের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিচারিক নির্দেশনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে শেখ হাসিনার যেকোনো বক্তব্য, বিবৃতি বা ভাষণ—তা সরাসরি হোক কিংবা ধারণকৃত—গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার না করাই সমীচীন হবে।
এ আহ্বানের আওতায় টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তথ্য অধিদপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সাধারণ নাগরিকদের উচিত আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। একই সঙ্গে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে তার বক্তব্য প্রচার সংক্রান্ত বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকারের সাম্প্রতিক এই আহ্বান গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা, আইনের প্রয়োগ এবং বিচারিক নির্দেশনা অনুসরণের বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
গণমাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য প্রচার বা প্রকাশের বিষয়ে সরকারের এই আহ্বান মূলত আদালতের নির্দেশনা ও বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে এই নির্দেশনা অনুসরণ করবে, তা পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।
