ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার বেগের দমকা হাওয়া, জলোচ্ছ্বাস ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’ আঘাত হানায় যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার বেগের দমকা হাওয়া, প্রবল বর্ষণ এবং ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ঝড়ের প্রভাবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপার টাইফুন ‘বাভি’ বর্তমানে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টির স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক প্লাবন, অবকাঠামো ধ্বংস এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝড়ের কেন্দ্রবর্তী এলাকাগুলোতে ভবন, সড়ক ও জনসেবামূলক স্থাপনার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নর্দার্ন মারিয়ানা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রোটা দ্বীপে ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। সেখানে প্রবল বাতাস, টানা বৃষ্টিপাত এবং জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সেবা কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডলের তথ্য অনুযায়ী, সাইপান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারেরও বেশি গতির দমকা হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি ঝড়টির তীব্রতা ও ধ্বংসক্ষমতার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার দিনের শেষভাগ পর্যন্ত ঝড়টির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা কম। মধ্যরাতের পরও এটি শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড় হিসেবে সক্রিয় থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) ‘বাভি’কে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সাধারণত ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাসবিশিষ্ট ঝড়কে সুপার টাইফুন বলা হয়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এ ধরনের ঝড়ের শক্তি উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য। ফলে এর ধ্বংসাত্মক প্রভাবও অত্যন্ত ব্যাপক হতে পারে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে, যা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও টাইফুন সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অধিক শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার এবং দুর্যোগ-সহনশীল পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
সুপার টাইফুন ‘বাভি’ বর্তমানে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের জন্য বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝড়টির গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।
