মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারী নাটালি হার্পকে ঘিরে চলা নানা জল্পনা-কল্পনায় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিরক্ত ও হতাশ বলে দাবি করেছে একটি প্রতিবেদন। ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর হোয়াইট হাউস অবশ্য এসবকে ভিত্তিহীন গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও বিদেশ সফরে ট্রাম্পের পাশে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে ৩৫ বছর বয়সী নাটালি হার্পকে। এ ঘনিষ্ঠতা থেকেই দুজনের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। একই সময়ে সরকারি কর্মসূচিতে মেলানিয়ার অনুপস্থিতিও সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত রোববার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ ট্রাম্প ও হার্পকে নিয়ে রসিকতা করে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের পরদিন হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে সরাসরি গুজব হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারাও অসফের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। মুখপাত্র ডেভিস ইংল তাঁকে আক্রমণ করে বলেন, নাটালি হার্প প্রেসিডেন্টের দলের অন্যতম বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সহকারী। যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চেউংও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসফকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প নাটালি হার্পকে ‘মানব প্রিন্টার’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কারণ, হার্প সব সময় সঙ্গে একটি প্রিন্টার রাখতেন এবং ট্রাম্পের আগ্রহের সংবাদগুলো দ্রুত ছাপিয়ে তাঁকে দিতেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার সময় হার্পকে তাঁর নির্বাহী সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সফরে তাঁর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত সোমবার ওভাল অফিসে এক নারী সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে অসফের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং ওই সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণ করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের এক প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ওই আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার পেছনে একটি কারণ হতে পারে—ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া এ ধরনের বিষয় পছন্দ করেন না।
নাটালি হার্প কয়েক বছর ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে রয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের আগের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে ট্রাম্পের ধারণা গঠনে হার্পের প্রভাব অতিরিক্ত হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছিল, হার্প কখনো কখনো ষড়যন্ত্রতত্ত্বনির্ভর বা সেসবের প্রতি ঝোঁক রয়েছে—এমন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টকে প্রশংসা করে প্রকাশিত সংবাদও তিনি তাঁর সামনে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান তাঁদের জুনে প্রকাশিত রেজিম চেঞ্জ বইয়ে দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় হার্প ট্রাম্পকে অত্যন্ত প্রশংসাসূচক চিঠিও লিখেছিলেন।
তবে ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জন সম্পর্কে হার্প এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে। একইভাবে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয়ের কাছেও।
নোট: ট্রাম্প ও নাটালি হার্পের সম্পর্ক নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য নেই; প্রতিবেদনে মূলত রাজনৈতিক মন্তব্য, গণমাধ্যমের দাবি ও হোয়াইট হাউসের পাল্টা বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
