ইরানের সঙ্গে ব্যবসা বা দেশটিকে যেকোনো ধরনের সহায়তা করা রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানকে সহায়তা করা কোনো দেশকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’র মুখে পড়তে হবে।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন ইরান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়িয়েছে এবং যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান হয়নি। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এটি হবে ‘নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও একঘরে অবস্থা’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো দেশ যদি তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে সেই দেশকেও কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
তবে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি। একই সঙ্গে ইরান ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট দেশের নামও উল্লেখ করেননি।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হবে। তাঁর মতে, সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতাও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রক্ষণশীল মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে বেসেন্ট বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এমন একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কার্যক্রম নেওয়া হবে, যা বিশ্ব আগে দেখেনি।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগও কয়েক মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামে একটি অভিযান চালাচ্ছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের অর্থায়নের পথ সংকুচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধের ব্যয় এবং এর ফলে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
এ ছাড়া ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর বাড়তে থাকা চাপও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
এদিকে ইরানকে সহায়তা করলে মিত্র বা অংশীদার দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ট্রাম্পের হুমকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যেসব দেশের বাণিজ্যিক ও আর্থিক যোগাযোগ রয়েছে, তাদের ওপর এ ধরনের মার্কিন পদক্ষেপের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
