মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অভিযান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও ক্রু নিয়ে রণতরিটি বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোর পথে রওনা হয়। প্রায় নয় মাস মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকার পর এটি দেশে ফিরছে।
রণতরিটির জায়গা নিতে জাপানে মোতায়েন থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীন বুধবার থেকে রণতরিটি কার্যক্রম শুরু করেছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা আব্রাহাম লিংকনের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রণতরিটির বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আব্রাহাম লিংকনের উদ্দেশে শুভযাত্রা কামনা করে শিগগিরই নাবিকদের তাঁদের স্বজনদের কাছে ফেরার কথা উল্লেখ করেন।
আব্রাহাম লিংকন গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর ২৭২ দিনের মধ্যে মাত্র দুবার সমুদ্র থেকে বিরতি নিয়েছে রণতরিটি। ডিসেম্বরে অল্প সময়ের জন্য গুয়ামে এবং পরে রসদ সংগ্রহের জন্য ওমানে থেমেছিল এটি।
অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে রণতরিটির কয়েক হাজার নাবিককে সমুদ্রে থাকতে হয়েছে। তাঁদের নিয়মিত বিশ্রামের সুযোগও সীমিত ছিল। এখন দেশে ফিরতে প্রায় ১৩ হাজার মাইল সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হবে। এতে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আব্রাহাম লিংকনে নাবিকদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতা রণতরিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি, পানিদূষণ, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার সমস্যা এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
এসব সমস্যার পেছনে বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সংকটকে দায়ী করা হয়েছে। ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
তবে অ্যাডমিরাল কুপার তাঁর মতামতধর্মী নিবন্ধে সমস্যাগুলোর অনেকগুলোকে পুরোনো বলে উল্লেখ করেছেন।
আব্রাহাম লিংকন দেশে ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমছে না। সেন্টকম জানিয়েছে, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে এবং কার্যক্রম শুরু করেছে।
পারস্য উপসাগরের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে ঘিরে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ রয়েছে। পাশাপাশি একটি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ ও মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও মোতায়েন আছে।
এ ছাড়া কয়েকটি ডেস্ট্রয়ারও ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। এসব যুদ্ধজাহাজের কয়েকটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ইরানের বন্দর অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস,
