নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলছুমা (৩০) নামে এক গৃহবধূকে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় নাজমা ও আকলিমা নামে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে চরজব্বার থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, কয়েকদিন আগে কুলছুমার রোপণ করা একটি শিমগাছ খেয়ে ফেলে তাঁর স্বামীর আগের সংসারের ছেলে সাইফুলের একটি ছাগল। এ নিয়ে কুলছুমা প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তাঁর বোনদের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঝগড়ার একপর্যায়ে সৎ ছেলে সাইফুল ও তাঁর বোনেরা কুলছুমার শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দেন। এতে তাঁর পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।
সোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি পুলিশ বা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। গোপনে চিকিৎসা করানোর কথা বলে প্রথমে কুলছুমাকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলা হয়।
তবে প্রতিশ্রুত টাকা না দেওয়ায় এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে কুলছুমার বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেন। মামলায় ছয়জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
চরজব্বার থানার ওসি রফিকুল হাসান জানান, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাজমা ও আকলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুই নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
