ওমানের সালালাহ পৌরসভায় ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের অনুরোধে তেহরান ও মাসকাটের পারস্পরিক সিদ্ধান্তে আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের জাতীয় গণমাধ্যম ও ওমান কর্তৃপক্ষ।
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল এবং নৌযান চলাচল তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ইরান ও ওমান কয়েক মাস ধরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে আসছিল। আলোচনাটি অন্য উপসাগরীয় আরব রাজতন্ত্রগুলোরও সমর্থন পেয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আঞ্চলিক যৌথ স্বার্থ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর আবেদনের প্রেক্ষাপটে বৈঠক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বদর আলবুসাইদি বলেন, সব পক্ষের ঐকমত্য নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা উৎসাহিত করার স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন কোন দেশ বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়। বিশ্বের আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে তেহরান সেখানে নৌ-অবরোধ আরোপ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ওমানে নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত হওয়ায় হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
