মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জনপ্রিয় শ্রমবাজার কুয়েতে কাজের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশিদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে যারা বিদেশে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা করছেন, তাদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো—কুয়েত কোম্পানি ভিসা বেতন কত?
শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়েতে কোম্পানি ভিসায় কর্মরত শ্রমিকদের বেতন নির্ভর করে কাজের ধরন, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর। ফলে সব কর্মীর বেতন এক নয়। তবে বিভিন্ন খাতে কর্মরত বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি আনুমানিক বেতনের চিত্র পাওয়া যায়।
কোম্পানি ভিসা কী?
কোম্পানি ভিসা বা ওয়ার্ক ভিসা হলো এমন একটি কর্মসংস্থান ভিসা, যার মাধ্যমে কোনো কুয়েতি কোম্পানি বিদেশি কর্মীকে স্পনসর করে। এই ভিসার আওতায় কর্মী নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বৈধভাবে কাজ করতে পারেন এবং শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন।
কোন কাজে কত বেতন?
বর্তমানে কুয়েতে অদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ কর্মীদের মাসিক বেতন সাধারণত ১২০ থেকে ২৫০ কুয়েতি দিনারের মধ্যে হয়ে থাকে। অন্যদিকে দক্ষ ও কারিগরি কর্মীদের বেতন তুলনামূলক বেশি।নির্মাণ শ্রমিক, ফ্যাক্টরি কর্মী এবং সাধারণ হেলপারদের বেতন সাধারণত ১২০ থেকে ২২০ দিনারের মধ্যে দেখা যায়। ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডার ও অন্যান্য কারিগরি পেশার কর্মীরা ২০০ থেকে ৫০০ দিনার বা তারও বেশি বেতন পেতে পারেন।
ওভারটাইমে বাড়তে পারে আয়
কুয়েতে অনেক কোম্পানি মূল বেতনের পাশাপাশি ওভারটাইমের সুযোগ দেয়। ফলে মাসিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য বিনামূল্যে আবাসন, পরিবহন ও চিকিৎসা সুবিধাও প্রদান করে, যা কর্মীদের আর্থিক সাশ্রয়ে সহায়তা করে।
দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে
শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে কুয়েতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে নির্মাণ, বিদ্যুৎ, মেকানিক্যাল, ওয়েল্ডিং, এয়ার কন্ডিশনিং এবং শিল্প কারখানা সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ জনশক্তির জন্য তুলনামূলক ভালো বেতন দেওয়া হচ্ছে।
আবেদনকারীদের জন্য সতর্কতা
বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেক অসাধু দালাল অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। তাই চাকরির অফার পাওয়ার আগে বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন সুবিধা এবং অন্যান্য শর্ত লিখিত চুক্তিতে উল্লেখ আছে কি না তা যাচাই করা জরুরি।এছাড়া শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেমিট্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশিরা প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান। ফলে দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে এই অবদান আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
