বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। হাইকোর্টের নির্দেশের পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাফিজুর রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে গত ২ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্তে তাকে প্রথম সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। প্রায় তিন মাস ১৪ দিন কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পেলেন।
গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, তনুর জব্দ করা পোশাকের ডিএনএ পরীক্ষায় একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহের আবেদন করা হলে গত ১৬ জুলাই আদালত ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দেন।
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যাদের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১) এবং কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২)।
এ ছাড়া গত ৮ জুন আদালত তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট (অব.) জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। ২০১৭ সালে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হলেও তা সন্দেহভাজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।
পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার তদন্তভার সিআইডি থেকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পালন করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।
