ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের নাজরান প্রদেশে অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, হুতি ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শিগগিরই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি শুক্রবার ভোরে জানান, বৃহস্পতিবার নাজরানে হুতিদের গোলাবর্ষণে সাতজন সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, হুতিরা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করেছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হুতি বিদ্রোহী বা ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের পাঁচ মাসব্যাপী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রায় এক দশক ধরে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত চললেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা নতুন করে তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে হুতিদের অবরোধের কারণে সৌদি তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে থাকা হুতি ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো, সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দর রয়েছে। এ কারণে সৌদি আরব মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।
এদিকে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও চুক্তিটির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যেও একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি হয়েছিল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। শুক্রবার সেখানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরও পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সৌদি কর্মকর্তার ভাষ্য, সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্য উদ্বেগজনক হলেও সৌদি আরব এখনো ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খুঁজছে। তাঁর দাবি, চলমান মধ্যস্থতা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখাচ্ছে এবং পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করার চেষ্টা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সব পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছিল হুতি বিদ্রোহীরা। সাম্প্রতিক সময়ে তারা সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থানে হামলা চালিয়ে ৩০ জনের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে হুতিরা।
এর আগে ২৯ জুলাই সৌদি আরব জানায়, তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে ইরাকের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর পরপরই ইরাকের ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দেয়।
