সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্যানসার চিকিৎসা চললেও তা আরও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে হান্টার বাইডেন। শুক্রবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাবার শারীরিক অবস্থা বেশ কঠিন হলেও ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন এখনো বাইরে যাচ্ছেন এবং নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র চার মাস পর জো বাইডেন জানান, তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত। তখনই জানা যায়, রোগটি তাঁর হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শনাক্ত হওয়া ক্যানসারটি বেশ আগ্রাসী ধরনের।
এরপর বাইডেনের চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি নেন। গত মাসে নিজের স্মৃতিকথা প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার সময় বাইডেন জানিয়েছিলেন, তাঁর চিকিৎসা ‘খুব ভালোভাবেই’ এগোচ্ছে।
তবে শুক্রবার রাতে সম্প্রচারিত বিবিসি নিউজনাইটের দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে হান্টার জানান, চিকিৎসা চলার মধ্যেও তাঁর বাবার ক্যানসার হাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আরও ছড়িয়ে পড়েছে।
হান্টার বাইডেন বলেন, ‘এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং অনেক দিক থেকেই খুব দুর্বল করে দেওয়ার মতো। কিন্তু তিনি (বাইডেন) এখনো বাইরে যাচ্ছেন, নিজের কাজ করছেন। তিনি এ দেশকে নিয়ে খুব আশাবাদী।’
বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলার সময় হান্টারকে কয়েকবার আবেগপ্রবণ হতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘এটা খুব, খুব কঠিন। তাঁকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখা সত্যিই খুব দুঃখের।’
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া জো বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল। এরপরও ২০২৪ সালে ৮১ বছর বয়সে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে ওই বছরের জুনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিভিশন বিতর্কে বাইডেনের পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিতর্কের পর ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতর থেকে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য চাপ বাড়তে থাকে।
পরবর্তী সময়ে বাইডেন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর জায়গায় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হন তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। নির্বাচনে হ্যারিসকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাইডেনের ত্বকের ক্যানসার কোষ অপসারণে অস্ত্রোপচারের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
