কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে তিন বাংলাদেশি জেলেকে একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। ঘটনার এক দিন পার হলেও তাদের এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদ্বীয়া সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনা ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক তিন জেলে হলেন—সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া এলাকার লেড়ু মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন, একই এলাকার মমতাজ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল এবং আইয়ুবের ছেলে হারুন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে কয়েকজন জেলে নাফ নদীর মোহনায় মাছ ধরছিলেন। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে সেখানে এসে একটি ট্রলারসহ তিন জেলেকে আটক করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় আরও দুই জেলে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া নৌঘাট কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি বলেন, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জন্য আরাকান আর্মির তৎপরতা বড় ধরনের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুযোগ পেলেই অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, নাফ নদীর জলসীমায় পর্যাপ্ত বয়া বা সীমানা চিহ্ন না থাকায় জেলেরা অনেক সময় স্রোতের টানে অজান্তেই সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলেন। পরে তাদের আটক করা হয়। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলসীমা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরী জানান, নাইক্ষ্যংদ্বীয়া সংলগ্ন নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে একটি ট্রলারসহ তিন জেলেকে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও দুই জেলে পালিয়ে ফিরে আসার তথ্যও পাওয়া গেছে।
আটক জেলেদের দ্রুত ফেরত আনা এবং সীমান্তবর্তী জলসীমায় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
