যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ প্রজনন চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। ৩৬ বছর বয়সী এই কংগ্রেস সদস্য গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিম্বাণু সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ওকাসিও-কর্টেজকে ইনজেকশন নিতে এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে দেখা যায়। পরে তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণের ব্যয়, চিকিৎসাপদ্ধতি, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেন তিনি। সেখানে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা হওয়াকে তিনি স্বাভাবিক করতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে’ এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।
ডেমোক্র্যাট এই কংগ্রেস সদস্যের বক্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করছে। তিনি বলেন, গর্ভপাতের অধিকার থেকে শুরু করে নিরাপদে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দেওয়ার সুযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা বাধার মুখে পড়ছেন। নেতৃত্বের অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ভাগ করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানানোর ক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিক ঝুঁকি’ রয়েছে। তারপরও তিনি নিজের অভিজ্ঞতা মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছেন।
সম্প্রতি একটি জনমত জরিপে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে ওকাসিও-কর্টেজও রয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রথমে হাসেন এবং বলেন, আপাতত তাঁর মনোযোগ মধ্যবর্তী নির্বাচনে।
ওকাসিও বলেন, ‘আমি এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। এই মুহূর্তে আমি কংগ্রেসে নির্বাচনের জন্য লড়ছি।’
তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তিনি পুরোপুরি নাকচ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওকাসিও বলেন, ‘আমি এই সম্ভাবনাকে নাকচ করিনি। আর বাইরে থেকে যে বিপুল সমর্থন পাচ্ছি, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত ও কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হলো মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে মনোযোগ ধরে রাখা, নিজেদের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের বিরুদ্ধে সিনেট নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা নিয়েও ওকাসিও-কর্টেজকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘সবকিছুই সম্ভব।’
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দুই বছর পরপর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এ নির্বাচন হয়। এবার নভেম্বরের শুরুতে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে ভোট হবে। পাশাপাশি সিনেটের ১০০টি আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের নির্বাচনও হবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
