ইতালির রাজধানী রোমে ছুরিকাঘাতে নিহত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাঁদের মরদেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিকেলে স্বজনেরা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন কামাল উদ্দিন ওরফে বাবুল (৩৯), তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় কামাল উদ্দিন ইতালিতে গিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
শুক্রবার সকাল আটটার দিকে তিনটি কফিন ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে স্বজনেরা মরদেহগুলো কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িতে নিয়ে যান। কফিনগুলো বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।
বাদ মাগরিব স্থানীয় শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তিনজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।
নিহত কামাল উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে কিছুদিন আগেই দেশে এসে নিজ হাতে পারিবারিক কবরস্থানে মাটি দিয়ে গিয়েছিল। কে জানত, সেই মাটিতেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ চিরনিদ্রায় শায়িত করতে হবে? আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, সর্বশেষ দেশে এসে কামাল উদ্দিন পারিবারিক কবরস্থানটি সংস্কার করেছিলেন। সেই কবরস্থানেই এবার স্ত্রী ও মেয়ের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।
গত ২৬ জুন রাতে রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে কামাল উদ্দিন, আরজু আক্তার ও তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশার মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনায় তাঁদের ছেলে অয়ন আহত হয়। চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে এখন একমাত্র অয়নই জীবিত রয়েছে।
গত মঙ্গলবার রোমে নিহত তিনজনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁদের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুক্রবার সকালে মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর সেগুলো নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইতালিতে থাকা পরিবারের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামে একটি চক্রের হুমকিসংবলিত চিঠি পাওয়া গিয়েছিল। চিঠিতে টাকা ও স্বর্ণালংকার না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় এবং সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল।
তবে ওই হুমকির সঙ্গে রোমে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। ইতালির পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
