যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা অতিরিক্ত মুনাফা করছে, অথচ সাধারণ মানুষকে এখনও উচ্চ দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে বড় তেল কোম্পানিগুলো বিপুল অর্থ আয় করছে। তাঁর মতে, এই লাভের একটি অংশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত এবং জ্বালানির খুচরা মূল্য কমানো উচিত।
“তারা খুব বেশি অর্থ উপার্জন করেছে, সত্যিই খুব বেশি। তাদের সেই অর্থের একটি অংশ জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত এবং খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম কমাতে হবে,” — বলেন ট্রাম্প।
এক্সনমোবিল ও শেভরনের রেকর্ড মুনাফা
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহত্তম তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল (ExxonMobil) এবং শেভরন (Chevron) শক্তিশালী ত্রৈমাসিক মুনাফার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে বড় তেল কোম্পানিগুলোর আয়ও বৃদ্ধি পায়।
ভোক্তাদের জন্য দাম কমানোর আহ্বান
ট্রাম্প বলেন, তেলের উচ্চমূল্য থেকে অর্জিত এই অতিরিক্ত মুনাফার পুরোটা কোম্পানিগুলোর কাছে থাকা উচিত নয়। বরং তারা জ্বালানির খুচরা মূল্য কমিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব করতে পারে।তিনি তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি দ্রুত জ্বালানির দাম কমানোর আহ্বান জানান।
বাইডেনও করেছিলেন একই সমালোচনা
তেল কোম্পানিগুলোর উচ্চ মুনাফা নিয়ে সমালোচনা করা ট্রাম্পের জন্য নতুন বিষয় নয়। তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনও উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় বড় তেল কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত লাভের সমালোচনা করেছিলেন এবং ভোক্তাদের স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বাজার পরিস্থিতি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখনও অস্থির রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী সপ্তাহগুলোতে তেল কোম্পানিগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে জ্বালানির দাম কমায় কি না, সেদিকে নজর থাকবে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ভোক্তাদের।
