যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)।
“Renewed Iran War Would Test Diminished Interceptor Inventories” শীর্ষক এক বিশ্লেষণে সংস্থাটি জানিয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরি (Operation Epic Fury)-এর প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সংখ্যক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। যুদ্ধবিরতির পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হার কিছুটা কমলেও চলমান সামরিক কার্যক্রমের কারণে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আরও কমে যাচ্ছে।
প্যাট্রিয়ট ও THAAD ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমছে
CSIS-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও সব হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে হতাহতের পাশাপাশি সামরিক ঘাঁটিরও ক্ষতি করেছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট (Patriot) ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ১,০০০-এর নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে THAAD ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় ২৫০টিতে সীমিত রয়েছে।
বিকল্প প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সীমিত
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে প্যাট্রিয়ট ও THAAD-এর কার্যকর বিকল্প বর্তমানে খুবই সীমিত।যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে থাকা স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল (Standard Missile) দিয়ে কিছু প্রতিরক্ষা সম্ভব, তবে সেগুলো অনেক সময় সংঘাতপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি অবস্থান না করায় কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ
CSIS সতর্ক করেছে, বর্তমান সংঘাতে বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্ভাব্য চীন-সংক্রান্ত সংঘাতের ক্ষেত্রে, প্রভাবিত হতে পারে।এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরের প্রতিরক্ষা বাজেটে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের জন্য ৯৫ বিলিয়ন ডলার এবং যুদ্ধ-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য ২১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে।সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: Center for Strategic and International Studies (CSIS), “Renewed Iran War Would Test Diminished Interceptor Inventories”, প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬।
