১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম নেন মীনা ও মিনাল। জন্মের কয়েক মাস পর তাদের মুম্বাইয়ের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবার দত্তক নেয়।
কৈশোরে দত্তক সংস্থার একটি অনুষ্ঠানে তাদের প্রথম দেখা হয়। তখন দুজনের চেহারায় মিল দেখে বন্ধুরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। মীনা জানান, মিনালের নাক ও হাসির ধরনে নিজের সঙ্গে মিল দেখে তিনি অবাক হয়েছিলেন।
এরপর দুজন ঠিকানা ও ফোন নম্বর বিনিময় করেন এবং নিয়মিত চিঠি লিখতেন। রক্তের সম্পর্কের বিষয়টি না জানলেও তারা একে অপরকে ‘সিস’ বা বোন বলে সম্বোধন করতেন। স্কুল, বন্ধু, ঘোরাঘুরি ও পছন্দের গানসহ নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলত।
প্রায় ১৫ বছর আগে হঠাৎ তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মিনাল ফ্রান্সে চলে যান এবং মীনা নিজের প্রথম সন্তানকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
নিজের শেকড়ের সন্ধানে ২০০৩ সালে ১৯ বছর বয়সে মীনা দত্তক নেওয়া মা-বাবা ও ভাইকে নিয়ে মুম্বাইয়ের সেই এতিমখানায় যান। দুই সপ্তাহ চেষ্টা করেও জন্মদাতা মা-বাবার কোনো তথ্য পাননি। পরে ২০১৭ সালে একটি ডিএনএ পরীক্ষা করলেও তখন কোনো স্বজনের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের এপ্রিলে নেদারল্যান্ডসে মা-বাবার কাছে বেড়াতে গিয়ে মিনাল একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেন। ফলাফলে এক নারীর সঙ্গে তার ডিএনএর শতভাগ মিল পাওয়া যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে তিনি বুঝতে পারেন, ওই নারী তার বহুদিনের হারিয়ে যাওয়া বন্ধু মীনা।
২০ মে মীনা ফেসবুকে মিনালের কাছ থেকে একটি বার্তা পান। সেখানে নিজের পরিচয় জানিয়ে মিনাল ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের একটি ছবি পাঠান। মীনা এরপর আবার ডিএনএ পরীক্ষার অ্যাপটি ইনস্টল করে লগইন করেন। ফলাফলে মিনালের সঙ্গে তারও শতভাগ ডিএনএ মিল পাওয়া যায়। এতে নিশ্চিত হন, তাদের জন্মদাতা মা-বাবা একই।
বোন হওয়ার সত্য জানার পর গত আগস্টে প্রথমবার সরাসরি দেখা করেন মীনা ও মিনাল। তাদের সেই পুনর্মিলন ছিল আবেগঘন—ছিল কান্না, আলিঙ্গন ও হাসি। পরে তারা বোন হিসেবে প্রথম সেলফিও তোলেন।
৪৪ বছর বয়সী মিনাল বর্তমানে ফ্রান্সে তার সঙ্গী ও দুই ছেলেকে নিয়ে থাকেন। অন্যদিকে মীনা তিন সন্তানের জননী। মে মাস থেকে দুজন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং একে অপরের পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গেও পরিচিত হয়েছেন।
দুজন এখন জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময় পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। মীনা জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে একে অপরের পাশে থাকতে না পারায় তার আফসোস হয়।
ভবিষ্যতে তারা একসঙ্গে ভারতে গিয়ে মুম্বাইয়ের সেই রাস্তাগুলোতে হাঁটতে চান, যেখান থেকে তাদের জীবনের গল্পের শুরু হয়েছিল।
