নির্যাতনের শিকার কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে সরকারি সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বহুপক্ষীয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার শহরের হোটেল সি প্যালেস লিমিটেডে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের ‘স্বপ্নের সারথি’ (সিসোর গার্লস ইনিশিয়েটিভ) প্রকল্পের আওতায় এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় সভাটি আয়োজন করা হয়। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, দেশি-বিদেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও তরুণ নেতৃত্বাধীন সংগঠনের প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
সভায় যৌন নিপীড়ন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের জন্য সুরক্ষাসেবা আরও সহজলভ্য ও সমন্বিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের সেবা দিচ্ছে, সে সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
সংকটে থাকা কোনো কিশোর-কিশোরীর প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, নিরাপদ আশ্রয় বা আইনি সহায়তা—যে ধরনের সেবার প্রয়োজনই হোক, ভুক্তভোগীদের যেন একাধিক প্রতিষ্ঠানে ঘুরতে না হয়, সে জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের গত বছরের সার্ভিস ম্যাপিংয়ের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়। এতে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসন সহায়তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঘাটতির বিষয় উঠে আসে।
কক্সবাজারে সক্রিয় ভিকটিম সাপোর্ট কল সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
কক্সবাজার সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন বলেন, বৈষম্য দূর করতে পুরুষ ও তরুণদের সচেতনতা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আশাব্যঞ্জক। সমাজসেবা বিভাগের আওতাধীন ৫৪টি সেবার বাইরে কোনো সেবার প্রয়োজন হলে সেবাপ্রার্থীকে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান বা সেবাদাতার কাছে কার্যকরভাবে পাঠানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
সভায় স্বাস্থ্য, মনোসামাজিক সহায়তা, নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তাকে সমন্বিত করে এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজ (ইএসপি) কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টেবিলিটি টু অ্যাফেক্টেড পপুলেশনস (এএপি) নীতির বিষয়টি উঠে আসে। এর মাধ্যমে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের সেবাব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত দেওয়া এবং প্রয়োজনে অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, জেন্ডার ও বৈষম্যের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবাগুলো শিশু-বান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য হওয়া উচিত।
সভা শেষে আগামী ১২ মাসে কক্সবাজারে যুববান্ধব পিএসইএ ও জিবিভি সহায়তা আরও শক্তিশালী করতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন অংশগ্রহণকারীরা। এসব উদ্যোগের অগ্রগতি তদারকির জন্য একজন ফোকাল পয়েন্টও নিয়োগ করা হয়েছে।
সভা আয়োজনে জাগো ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফের পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অনুষ্ঠানস্থল ও যাতায়াতব্যবস্থা সহজগম্য রাখা হয়। পাশাপাশি আপ্যায়নে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত রাখা হয়।
