হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির জন্য জব্দ করা ইরানি অর্থসম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এ ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্তের জন্য বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা। তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সময় যে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের জব্দ করা অর্থসম্পদ থেকে পরিশোধ করা হবে।
জুলাইয়ের শুরু থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তেহরান।
গত বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দখলে থাকা ইরানের অর্থ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। তবু আমরা মনে করি, এভাবেই কাজ করাটা সবচেয়ে ন্যায্য হবে।”
ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “অন্য একটি দেশের সম্পদ জব্দ করে ভবিষ্যতের অন্য কোনো ক্ষতিপূরণ মেটানোর চেষ্টা খুবই বিপজ্জনক নজির।”
তিনি আরও বলেন, “যাঁরা এ অর্থ থেকে লাভবান হচ্ছেন বা এমন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত—বিভিন্ন দেশের সরকার যদি অন্য দেশের সম্পদ জব্দ করাকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে, তাহলে ভবিষ্যতে কারও সম্পদই নিরাপদ থাকবে না। এতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা ভালো ফল বয়ে আনবে না।”
ইরানের সম্পদ জব্দের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনার পর প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ইরানের অর্থসম্পদ জব্দ করে। এরপর কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ বিপুল পরিমাণ ইরানি সম্পদ আটকে রেখেছে।
জব্দ করা সম্পদের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এর মূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে।
এই সম্পদ ফেরতের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। গত জুনে যুদ্ধ অবসানের পথ তৈরির লক্ষ্যে দুই দেশ যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল, সেখানে এ বিষয়ে উল্লেখ ছিল। তবে পরবর্তীতে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করেছে। ৭ মের পর এক দিনে এটি ছিল ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সর্বনিম্ন ট্যাংকার চলাচলের ঘটনা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
